নতুন বিধিতে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে অনিশ্চয়তায় দ্বৈত নাগরিকরা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে হলে দ্বৈত নাগরিকদের অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ডিজিটাল ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ বহন করতে হবে। অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ আর থাকছে না।

যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট সংক্রান্ত নতুন বিধি কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে হলে দ্বৈত নাগরিকদের অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ডিজিটাল ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ বহন করতে হবে। অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ আর থাকছে না। খবর বিবিসি।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসন ব্যবস্থা আধুনিক ও সহজ করতে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) চালুর অংশ হিসেবেই এ সংস্কার আনা হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি বহু দ্বৈত নাগরিকের জন্য উদ্বেগ ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, অনেকেই নাগরিকত্ব নেয়ার পর ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেননি। এসব নথি পেতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ, খরচও বেশি। একটি ব্রিটিশ পাসপোর্টের ফি প্রায় ১০০ পাউন্ড আর সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্টের খরচ ৫৮৯ পাউন্ড।

নতুন নিয়মের আওতায় দ্বৈত নাগরিকরা ইটিএর জন্যও আবেদন করতে পারবেন না। ফলে নির্ধারিত কাগজপত্র না থাকলে বিমান সংস্থাগুলোই যাত্রীদের যুক্তরাজ্যমুখী ফ্লাইটে উঠতে বাধা দিতে পারবে। এ নিয়ম আইরিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের দ্বৈত নাগরিকরা এর আওতায় পড়বেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের আদমশুমারিতে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ১২ লাখ মানুষ দ্বৈত নাগরিক। নতুন বিধি কার্যকরের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় অনেকে ছুটি বা পারিবারিক সফরে দেশের বাইরে অবস্থানরত অবস্থায় হঠাৎ এ পরিবর্তনের কথা জানতে পেরে বিপাকে পড়েছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার পর্যাপ্তভাবে আগাম বার্তা দেয়নি। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনানুষ্ঠানিক সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ অবস্থায় কেউ কেউ বিদেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন, আবার কেউ ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের কথাও ভাবছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে ছিল আর ২০২৩ সাল থেকে ইটিএ নিয়ে যোগাযোগ কার্যক্রম চলছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

তবে অধিকারকর্মী ও অভিবাসী সংগঠনগুলোর মতে, হঠাৎ করে নিয়ম কার্যকর করায় দ্বৈত নাগরিকদের একটি বড় অংশ বাস্তব ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা নতুন বিধি স্থগিত বা অন্তত স্বল্প খরচে অস্থায়ী ভ্রমণ অনুমতির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও