ইরানবিরোধী অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন হতাহতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। নিহতের জন্য শোকপ্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, অভিযান শেষ হওয়ার আগে আরো হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। খবর রয়টার্স।
সংঘাত দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর মধ্যে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ জন ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করতে শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইরানের নয়টি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বাকি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেয়ার পর থেকে মার্কিন বিমান ও যুদ্ধজাহাজ এক হাজারের বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ২ হাজার পাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করেছে।
ইরানের পাল্টা হামলাও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। শনিবার হতাহতের কোনো খবর না থাকলেও গতকাল তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আরো কয়েকজন মার্কিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। তবে কোথায় বা কীভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নিহত সেনারা কুয়েতের একটি ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন।
গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযানে এটিই প্রথম প্রাণহানি। এ কথা স্বীকার করে মার্কিন জনগণকে আরো হতাহতের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ট্রাম্প। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।
এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এটি শেষ হওয়ার আগে সম্ভবত আরো হতাহতের ঘটনা ঘটবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে। মূলত সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে কঠোর আঘাত হানবে।’
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইকেল ওয়াল্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা কখনো বিনামূল্যে আসে না।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বলেছেন, ইরানে চলমান হামলা চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও বলেছেন, এ অভিযান কয়েক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি একটি অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরো গভীর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এর ধাক্কা শিপিং, উড়োজাহাজ চলাচল ও জ্বালানি তেলের বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।