যুক্তরাজ্যে জন্মহার কমছে, ২০২৯ সালের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থানীয় একটি থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (ইপিআই) জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশটির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনকার তুলনায় কমতে পারে ৪ শতাংশ বা ১ লাখ ৬২ হাজার। এর ধারাবাহিকতায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

যুক্তরাজ্যে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে জন্মহার। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। স্থানীয় একটি থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (ইপিআই) জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশটির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনকার তুলনায় কমতে পারে ৪ শতাংশ বা ১ লাখ ৬২ হাজার। এর ধারাবাহিকতায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ইপিআই বলছে, যুক্তরাজ্যের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বড় কারণ হলো জন্মহার হ্রাস। বিশেষ করে রাজধানী লন্ডনে বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি প্রকট। কারণ সেখানকার অনেক মানুষ এখন নগরীটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আবার সরকারি স্কুল ছেড়ে অনেকেই সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। আবার বিদেশেও সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

অনেক স্থানেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় কার্যক্রম চালু রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় কাউন্সিলগুলো। এসব স্কুলে অর্থায়ন হয় শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এসব স্কুল একীভূতকরণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকবে। যুক্তরাজ্যের কিছু কিছু অংশে এরই মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।

ইপিআইয়ের হেড অব অ্যানালাইসিস প্রধান জন অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘যেসব স্কুলে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, সেগুলোর আর্থিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। এতে শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে পারে। সমস্যাটি প্রথমে লন্ডনে দেখা দেয়। সেখানে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশের আগেই শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যা কমতে শুরু করে।’

যুক্তরাজ্যে জাতীয় জন্মহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ২০১০ সালে। এর ফলে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় বড় বড় ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে থাকে। তখন কাউন্সিলগুলো তড়িঘড়ি করে নতুন স্কুল খোলে এবং বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোয় আসন সংখ্যা বাড়ায়। যদিও দেশটিতে এরপর থেকেই জাতীয় জন্মহার নাটকীয়ভাবে কমতে থাকে।

দেশটিতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০১৮-১৯ সালে। সেবার তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ লাখে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে তা আরো ৪ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এ পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪২ লাখ ৪০ হাজারে। বর্তমানের তুলনায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে পারে ১ লাখ ৬২ হাজার। এতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে প্রায় ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হেড টিচার্সের মহাসচিব পল হুইটম্যান যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি দেশটির বিদ্যালয়গুলো চালু রাখতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইপিআই গবেষক লিলি উইলার বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাসকে শুধু জন্মহার কমে যাওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের চাপ এবং বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ও অঞ্চলভেদে মানের ভিন্নতার মতো কারণগুলোও সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো কোথায় বসবাস করবে এবং কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে।’

ইপিআইয়ের হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাসে শীর্ষ ১০ স্থানীয় সরকারের মধ্যে নয়টিই রাজধানীতে। এর মধ্যে ইজলিংটন, ল্যাম্বেথ ও সাউথওয়ার্কে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হারে কমবে।

আরও