তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি: চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা কেন উদ্বেগের কারণ

ট্রাম্পের মন্তব্য তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে এই সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে যে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই তাদের পাশে থাকবে কি না।

অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা ১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়কার 'সিক্স অ্যাসিউরেন্স' বা 'ছয়টি নিশ্চয়তা' নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হতে পারে। এই নীতির দ্বিতীয় শর্তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চীনের সঙ্গে পরামর্শ করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য তাইপে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সোমবার ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছেন। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি যেখানে চীনকে এড়িয়ে তাইওয়ানকে সমর্থনের কথা বলে, সেখানে ট্রাম্পের এই সরাসরি আলোচনাকে একটি 'বিপজ্জনক নজির' হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর এপি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা ১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়কার 'সিক্স অ্যাসিউরেন্স' বা 'ছয়টি নিশ্চয়তা' নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হতে পারে। এই নীতির দ্বিতীয় শর্তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চীনের সঙ্গে পরামর্শ করবে না।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ চীনকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিতে পারে, যা আগে কখনোই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি।

চীন দীর্ঘকাল ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে তা দখলের হুমকিও দিয়ে রেখেছে। ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড অস্ত্র সহায়তা ঘোষণা করার পর থেকেই বেইজিং ক্ষুব্ধ। শি জিনপিং সরাসরি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়।

এতদিন পর্যন্ত মার্কিন নীতি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাম্বিগিউটি বা কৌশলগত অস্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে চলত। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র 'এক চীন' নীতিকে স্বীকৃতি দিলেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সরঞ্জাম দিতে আইনিভাবে বাধ্য। কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বা ধরন এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে দর কষাকষির বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। তার আগেই এমন মন্তব্য তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে এই সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে যে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই তাদের পাশে থাকবে কি না।

বর্তমানে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে'র সরকারও অভ্যন্তরীণ চাপে রয়েছে। পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর বাধার কারণে প্রতিরক্ষা বাজেট পাস করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও