মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তার সরকার দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সংঘটিত প্রতিটি হত্যা মামলার জন্য মৃত্যুদণ্ড চাইবে। দেশের রাজধানীতে অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরা।
মঙ্গলবার তার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ রাজধানীতে কাউকে হত্যা করে, তবে আমরা মৃত্যুদণ্ড চাইব। এটি শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।‘
তিনি স্বীকার করেন যে, এই নীতি বিতর্কিত হতে পারে। তবুও তিনি এগিয়ে যাবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না এই দেশে আমরা এর জন্য প্রস্তুত কিনা, কিন্তু আমাদের আর কোনো উপায় নেই। রাজ্যগুলোকে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।‘
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থান কিছুটা অনন্য। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, রাজধানী একটি ফেডারেল ডিসট্রিক্ট, যা কোনো রাজ্য বা রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত কোনো শহর নয়।
দেশের অন্য কোথাও বেশিরভাগ হত্যা মামলার বিচার রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়, যদি না তা ফেডারেল অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে। কিন্তু ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস প্রায় সব ধরনের সহিংস অপরাধের বিচার করে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যত স্থগিত ছিল। বাইডেন নিজে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি মেয়াদের শেষ দিকে ফেডারেল ডেথ রো-তে থাকা ৪০ জনের মধ্যে ৩৭ জনের সাজা হ্রাস করেছিলেন।
কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে মৃত্যুদণ্ড আবারো চালুর চেষ্টা চালান। তার ভাষায়, ‘শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডই ভয়াবহ অপরাধের যথাযথ শাস্তি দিতে পারে এবং সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে।‘
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৭–২০২১) ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ান। ১৯৭৬ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করার পর থেকে যতগুলো ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার মধ্যে ১৩টি হয়েছিল ট্রাম্পের সময়ে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই কমছে। গ্যালাপের ২০২৪ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৩% আমেরিকান মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন—এক দশক আগে যা ছিল ৬৩%।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আরো বেড়ে যাবে।
ওয়াশিংটনে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা ট্রাম্পের রাজধানীজুড়ে অপরাধ দমনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যদিও স্থানীয় পুলিশ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে শহরে সহিংস অপরাধ গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল, হত্যাকাণ্ডও আগের বছরের তুলনায় ৩২% হ্রাস পেয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে আমাকে স্বৈরশাসক বলে। কিন্তু আমি অপরাধ দমন করি। আমি স্বৈরশাসক নই। আমি শুধু জানি কীভাবে অপরাধ বন্ধ করতে হয়।‘