গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে যাত্রা করা 'গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা'কে সহায়তায় নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠিয়েছে স্পেন ও ইতালি। মানবিক সাহায্যবাহী এই বহরে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলাসহ একাধিক আক্রমণের পর ইউরোপের এই দুই দেশ অভূতপূর্ব পদক্ষেপ হিসেবে তাদের জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিল।
ফ্লোটিলা জানিয়েছে, গাজার কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা 'আসন্ন' ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা করছে। ইসরায়েলও ঘোষণা করেছে, তারা কোনোভাবেই ফ্লোটিলাকে 'সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে' প্রবেশ করতে দেবে না। এর আগে চলতি বছর আরো তিন দফা গাজায় সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা ইসরায়েলি বাহিনী রুখে দিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বাইরে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, 'স্পেন সরকারের দাবি—আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে এবং ভূমধ্যসাগরে স্পেনীয় নাগরিকদের নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।' সানচেজ ইসরায়েলের অন্যতম কড়া সমালোচক এবং এরইমধ্যে ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলপন্থী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ইতালি কিছুটা শর্তসাপেক্ষে ফ্লোটিলাকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মিশনটিকে 'অপ্রয়োজনীয়, বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন' বললেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেছেন, 'এটি যুদ্ধের কাজ নয়। এটি কোনো উসকানি নয়। এটি মানবতার একটি কাজ, যা তার নাগরিকদের প্রতি একটি রাষ্ট্রের কর্তব্য।'
ইতালি প্রথমে ভারজিনিও ফাসান ফ্রিগেট পাঠালেও পরে সেটি বদলে পাঠানো হয় আলপিনো ফ্রিগেট। অন্যদিকে স্পেনের টহলজাহাজ ফুরর বৃহস্পতিবার কার্তাহেনা বন্দর থেকে যাত্রা করেছে। স্পেন জানিয়েছে, জাহাজ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ফ্লোটিলায় থাকা বেলজিয়ান নাগরিকদের সহায়তা করা; একইসঙ্গে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, মানবিক সহায়তা প্রদানে নিযুক্ত বেসামরিক নাগরিকরা, যেমন ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবকরা, জেনেভা কনভেনশনের শর্তাবলী অনুসারে সুরক্ষিত।
ফ্লোটিলার আয়োজকদের মতে, ফ্লোটিলার ওপর যেকোনো আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অস্থায়ী আদেশের লঙ্ঘন হবে। যা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।
সমুদ্র আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) এর অধীনে ফ্লোটিলা বাড়তি সুরক্ষা পাবে। এই কনভেনশন চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক জলসীমায় 'নিরাপদ যাতায়াতের' নিশ্চয়তা দেয়, যতক্ষণ না ফ্লোটিলা শান্তি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
সমুদ্র আইন অনুসারে, ইতালীয় এবং স্পেনীয় জাহাজগুলো প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করতে পারে। যেকোনো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানেও সহায়তা করতে পারে এসব জাহাজ, তবে তা করতে হবে কঠোর আইনি সীমার মধ্যে থেকে। তবে বাস্তবে স্পেন ও ইতালির নৌবাহিনী কেবল প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি ও উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পারবে। সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশ বা অবরোধ ভাঙার পদক্ষেপ তাদের এখতিয়ারের বাইরে।