আফগানিস্তানে তথ্য ফাঁস: কার ঝুঁকি কতটা

সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে রয়েছেন সেই ৬০০ সাবেক আফগান সরকারি সেনা এবং তাদের আনুমানিক ১,৮০০ স্বজন, যারা এখনো আফগানিস্তানে রয়েছেন।

স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) ও স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য এই ধরনের ফাঁস তাত্ত্বিকভাবে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের মিশন সরাসরি হত্যাকাণ্ড বা বন্দির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি বড় তথ্যফাঁসের ঘটনা যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ও স্পেশাল ফোর্স সদস্যদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ ঘটনাকে ১৯৯৯ সালে সাবেক এমআই৬ কর্মকর্তা রিচার্ড টমলিনসনের মাধ্যমে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের নাম প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় তথ্যফাঁস বলেই মনে করা হচ্ছে।

এমআই৬-এর কোনো কেস অফিসারের পরিচয় জনসমক্ষে এলে তা তার গোয়েন্দা ক্যারিয়ারের ইতি ঘটাতে পারে। নাম ও পরিচয় গোপন রাখা যায় বা পাল্টানোও যায়। তবে বায়োমেট্রিক তথ্য একবার ফাঁস হলে তা আর ফিরিয়ে নেয়া যায় না। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের কোনো কর্মকর্তার বায়োমেট্রিক তথ্য ফাঁস হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) ও স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য এই ধরনের ফাঁস তাত্ত্বিকভাবে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের মিশন সরাসরি হত্যাকাণ্ড বা বন্দির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাহিনীর যেসব সদস্যদের নাম ফাঁস হওয়া ডেটাসেটে ছিল, তাদের জন্য বাস্তবিক ঝুঁকি খুবই সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে রয়েছেন সেই ৬০০ সাবেক আফগান সরকারি সেনা এবং তাদের আনুমানিক ১,৮০০ স্বজন, যারা এখনো আফগানিস্তানে রয়েছেন। তাদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য তালিকাভুক্ত হওয়ায় তালেবান কর্তৃক প্রতিশোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

২০২৩ সালের আগস্টে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল এই তথাকথিত ‘অননুমোদিত তথ্য ফাঁস’। এর ফলে ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে সময় ছিল দুই বছর।

এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিগুলোর সম্ভাব্যতা বিবেচনা করছে এমআই৬। রাশিয়া, চীন, ইরান কিংবা উত্তর কোরিয়া এই ফাঁস হওয়া তথ্য সংগ্রহ করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির।

তালেবান হয়তো পুরনো ব্রিটিশ সেনা বা গোয়েন্দাদের নাম নিয়ে তেমন আগ্রহী নয়। তবে তারা খুব ভালো করেই জানে এই তথ্য কাদের কাজে লাগবে। যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষরা এরইমধ্যে তালিকাটির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যফাঁসের ফলে আফগান নাগরিকদের নিরাপদে অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তালিকাটি জনসমক্ষে আসার ফলে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে তালেবানের উগ্র অংশ। সে সঙ্গে, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে তারা প্রতিশোধ নিতে পারে।

যেসব সাবেক সরকারি সেনা ২০ বছর পশ্চিমাদের মিত্র হয়ে কাজ করেছিলেন এবং এখনো আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন, তারা রয়েছেন সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে।


বিবিসি অবলম্বনে

আরও