নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল বা আইন অনুমোদন করেছে জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগ। শুক্রবার অনুমোদন পাওয়া বিলটি দেশটিকে পুনরায় সেনা নিয়োগব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দেবে। মূলত রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নিল দেশটি। খবর সিএনএন।
বিতর্কিত বিলটি শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩২৩ আইনপ্রণেতা, আর বিপক্ষে দিয়েছেন ২৭২ জন। ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন একজন।
নতুন এ আইনে ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ রিজার্ভ সেনা রাখার পরিকল্পনাও আছে। তবে বিলে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ সরাসরি চালুর কথা উল্লেখ নেই। বরং স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহিত করতে বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
আইনে আরো বলা হয়েছে, লক্ষ্য পূরণ না হলে সরকার প্রয়োজনে 'বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ’ চালুর করতে পারবে। তবে এর জন্য সংসদে আরেকটি আইন পাস করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় ১৮ বছর পূর্ণ করলেই শুরু হবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া। আগামী বছর শুরু হতে যাওয়া এ প্রক্রিয়ায় সব ১৮ বছর বয়সী তরুণের কাছে একটি প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়া শুধু পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক। আর ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ১৮ বছর পূর্ণ হলেই তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা দিতে হবে।
২০১১ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা স্থগিত করে জার্মানি। ফলে সেনাবাহিনীতে যোগদান পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবীভিত্তিক হয়ে পড়ে। স্নায়ুযুদ্ধের পর ইউরোপ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে হওয়ায় জার্মানির বার্ষিক জিডিপির ২ শতাংশের কম বাজেট পেয়েছে তাদের সেনাবাহিনী।
চলতি বছরের জুলাই মাসে নারীদের জন্যও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করেছে ডেনমার্ক। লাটভিয়া ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সেবা পুনরায় চালু করেছে। আর ফ্রান্স গত মাসে নতুন যুব স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।