বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বড় ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকে এ জায়গায় ‘নেতৃত্বদানকারী' একটি আইন কার্যকর করতে চলেছে দেশটি। কিন্তু আইন কার্যকর হওয়ার আগেই সেটি ভাঙার উপায় খুঁজে ফেলেছে কিশোর-কিশোরীরা। ফলে নীতিটির কার্যকারিতা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। খবর রয়টার্স।
১৩ বছর বয়সী ইসোবেল জানায়, স্ন্যাপচ্যাটের বয়স যাচাই ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে তার মাত্র পাঁচ মিনিট লেগেছে। মায়ের ছবি ক্যামেরার সামনে ধরতেই অ্যাপ তাকে ১৬ বছরের বেশি হিসেবে শনাক্ত করে অ্যাকাউন্ট চালু করে দেয়। ইসাবেল কৌতুক করে বলে, ‘আমি শুনেছি কেউ কেউ বিয়ন্সের ছবিও ব্যবহার করেছে।‘
অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইনে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ ১০টি প্রধান প্ল্যাটফর্মকে বাধ্য করা হয়েছে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার শর্তও আছে। সরকারের দাবি—এ আইন শিশুদের অনলাইন ক্ষতি, পর্নোগ্রাফি, হিংসাত্মক কনটেন্ট ও সাইবারবুলিং থেকে রক্ষা করবে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স যাচাই প্রযুক্তি এখনো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। ভুয়া ছবি, ভিপিএন, অথবা অভিভাবকের ইমেইল ব্যবহার করে নীতিকে সহজেই ফাঁকি দেয়া যায়। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২২ ডলারের মাস্ক দিয়েই কিছু ক্ষেত্রে মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ব্যর্থ করা গেছে। এ ছাড়া অনেক অভিভাবকই সন্তানদের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সাহায্য করতে পারেন। সরকারি জরিপে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।
সমালোচকরা আরো আশঙ্কা করছেন, মেইনস্ট্রিম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হলে শিশুরা আরো ঝুঁকিপূর্ণ চ্যাটরুম বা কম নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটে ঝুঁকে যেতে পারে। ইউটিউব সতর্ক করে বলেছে, অ্যাকাউন্ট না খুলে ব্রাউজ করলে শিশুরা আরো বেশি অনিরাপদ কনটেন্টের মুখোমুখি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের এক অংশ মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা নয় বরং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কঠোর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
সরকার অবশ্য বলছে, এটি কেবল শুরু। আরো শক্তিশালী ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ আইন আনা হবে যাতে টেক কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর ক্ষতির জন্য সরাসরি দায় নিতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, ‘শিশুদের একটি প্রজন্মকে রক্ষা করার কাজ এটি। চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।‘