গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

কপ৩০: জলবায়ু বিপর্যয়ে দায়ী শিল্পগুলোই আলোচনায় প্রবেশাধিকার পাচ্ছে

বিগত বছরের কপ সম্মেলনের তুলনায় এ বছর ১৪ শতাংশ বেশি লবিস্ট অংশ নিয়েছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো: এদের ৭৭ জন কোনো না কোনো দেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য। যার মধ্যে ছয় জন জাতিসংঘের মূল নীতি-আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ব্রাজিলের আমাজনে অনুষ্ঠিত এবারের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে (কপ৩০) অংশ নিয়েছে তিন শতাধিক কৃষি লবিস্ট। ফলে সংকট নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বড় কৃষি কোম্পানিগুলোর ক্ষমতার প্রদর্শনীর মঞ্চে পরিণত হয়েছে এ সম্মেলন।

ডেসমগ ও দ্য গার্ডিয়ানের যৌথ অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বিগত বছরের তুলনায় এবার কপ সম্মেলনে ১৪ শতাংশ বেশি লবিস্ট অংশ নিয়েছে। সংখ্যায় এরা বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতি কানাডার সরকারি প্রতিনিধিদলের (২২০) সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো এদের ৭৭ জন কোনো না কোনো দেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য। যার মধ্যে ছয়জন জাতিসংঘের মূল নীতি-আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী কৃষি খাতের সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, খাদ্য উৎপাদন ও ভোগের বর্তমান ব্যবস্থা বদলানো না গেলে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব। বিশ্বব্যাপী মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ২৫-৩৩ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। সবচেয়ে বেশী দায়ী গো মাংস উৎপাদন ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত সয়াবিনের বাণিজ্যিক চাষ। এমনকি আমাজনের বন উজাড়ের সবচেয়ে বড় কারণ গরুর খামার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাজনের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

করপোরেট প্রবেশাধিকার নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কপ সম্মেলনগুলোয় জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য দায়ী শিল্পগুলোই সবচেয়ে বেশি প্রবেশাধিকার ও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বাধ্যতামূলক নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য বা মাংসভোগ নিয়ন্ত্রণের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ বছর ৩০২ লবিস্টের মধ্যে ৭২ জনই মাংস ও দুগ্ধশিল্প সংশ্লিষ্ট। ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ইউএস-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বের ৪৫টি বৃহৎ মাংস ও দুগ্ধ কোম্পানি সৌদি আরবের সমান কার্বন নিঃসরণ করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংস কোম্পানি জেবিএস একাই নিঃসরণ করে ২৪ শতাংশ। অথচ এ বছরের সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি ৮ জন লবিস্ট পাঠিয়েছে।

২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব যদি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, তবুও ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। এর একমাত্র কারণ বর্তমান খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।

এশিয়ান পিপলস মুভমেন্টের লিডি নাকপিল বলেন, শিল্প কৃষিকে জলবায়ু সম্মেলন দখল করতে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কপ কখনোই বাস্তব জলবায়ু সমাধান দিতে পারবে না। লেখক ও গবেষক রাজ প্যাটেলের মতে, এটা জলবায়ু সম্মেলন নয়, বরং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে জিম্মি–অবস্থা।

আরও