মার্কিন হামলা হলে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রস্তুত মাদুরো: ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

জরুরি অবস্থা কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বিশেষ ক্ষমতা পাবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল, গ্যাস, সোনা ও খনিজ সম্পদ দখল করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। তার মতে, 'এটির একটিমাত্র লক্ষ্য হলো— ভেনিজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করা।'

যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলা চালালে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এ কথা জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। তিনি সতর্ক করেছেন, এমন কোনো হামলা হলে এর পরিণতি হবে 'ভয়াবহ'। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কারাকাসের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বড় আকারের মোতায়েন এবং ভেনিজুয়েলার নৌকা লক্ষ্য করে বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করছে এসব অভিযান লাতিন আমেরিকার মাদক চক্র দমনের অংশ। তবু অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি মাদুরোর ১২ বছরের শাসন শেষ করার বৃহত্তর সামরিক হস্তক্ষেপের পূর্বাভাস হতে পারে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রদ্রিগেস যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'মাদকবিরোধী যুদ্ধের গল্পটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।' তিনি অভিযোগ করেন, ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল, গ্যাস, সোনা ও খনিজ সম্পদ দখল করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। তার মতে, 'এটির একটিমাত্র লক্ষ্য হলো— ভেনিজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করা।'

রদ্রিগেস আরো জানান, জরুরি অবস্থা কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বিশেষ ক্ষমতা পাবেন। সশস্ত্র বাহিনীকে দ্রুত মোতায়েন, সীমান্ত বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন তিনি। রদ্রিগেস দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, 'আমরা কোনোদিন আমাদের মাতৃভূমি অন্য কারো হাতে তুলে দেবো না— কখনোই না।'

তিনি সতর্ক করে দেন, যারা প্রকাশ্যে বিদেশী আক্রমণের পক্ষে কথা বলবেন, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা একে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ভেতরে ড্রোন হামলা চালানোর বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে এবং তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে।

ক্রাইসিস গ্রুপের কারাকাসভিত্তিক বিশ্লেষক ফিল গানসন মনে করেন, ভেনিজুয়েলায় পূর্ণাঙ্গ মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা কম। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমিত আকারে ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলার আশঙ্কা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয়া যায় না।

আরও