ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধী একটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এ টিকাটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষ নিতে পারবেন। কোম্পানির ভারতীয় শাখা সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু।
ডিসিজিআই জানিয়েছে, দুই ডোজের এ টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। নতুন ওই টিকার নাম কিউডেঙ্গা (QDENGA)। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে। টিকা নেওয়ার আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, পূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা বিবেচনা ছাড়াই টিকাটি দেওয়া যাবে।
জাপানি প্রতিষ্ঠান তাকেদার ভারতীয় শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৪৩টি দেশে এই টিকার অনুমোদন রয়েছে। শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া, ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ১৮ মাস পর টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
গবেষণার সাড়ে চার বছরের অনুসরণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছরের তথ্যেও ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা বজায় থাকার প্রমাণ মিলেছে।
ভারতে টিকার উৎপাদন বাড়াতে ২০২৪ সালে দেশটির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োলজিক্যাল ই-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে তাকেদা।
এটি আগে বাজারে থাকা আরেকটি ডেঙ্গু টিকা সানোফির ডেংভ্যাক্সিয়া থেকে ভিন্ন। পূর্ববর্তী টিকাটি কেবল আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী ছিল। কারণ, যাদের আগে ডেঙ্গু হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ওই টিকা গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ ছিল।