জীবন্ত উষ্ণ-রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকা বিপজ্জনক পরজীবী মাছি নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের সংক্রমণ টেক্সাসের একটি বাছুরের শরীরে শনাক্ত হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ ইউএসডিএ। এর ফলে দেশটির গবাদিপশু খাত বড় হুমকির মুখে পড়েছে। খবর রয়টার্স।
টেক্সাসের লা প্রাইর শহরের একটি বাছুরের শরীরে এ সংক্রমণ ধরা পড়ে। শহরটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে।
গত এক বছরে মেক্সিকোর মধ্য দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়া এ পতঙ্গ নিয়ে মার্কিন খামারিরা আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। ১৯৬৬ সালের পর এ প্রথম টেক্সাসে স্ক্রুওয়ার্মের উপস্থিতি নিশ্চিত হলো।
ইউএসডিএর সেক্রেটারি ব্রুক রোলিন্স জানান, বর্তমানে এটিই দেশের একমাত্র নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু শিল্পের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির গরুর সংখ্যা এরই মধ্যে ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সীমিত সরবরাহের কারণে গরুর মাংসের উৎপাদন কমেছে এবং ভোক্তাদের জন্য দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরজীবীটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে শুধু টেক্সাসেই প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ১৮০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। টেক্সাসের কৃষি বিষয়ক কমিশনার সিড মিলার অভিযোগ করেন যে ইউএসডিএ যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেয়ায় স্ক্রুওয়ার্ম যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পেরেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ও পোষা প্রাণীও এ পরজীবি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে, তবে মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ও বিরল। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এর কোনো প্রভাব নেই।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকার চারপাশে ২০ কিলোমিটার অঞ্চলে প্রাণী স্থানান্তর বন্ধ করেছে, জীবাণুমুক্ত (স্টেরাইল) স্ক্রুওয়ার্ম মাছি ছাড়া হয়েছে বলে জানায় ইউএসডিএ
এছাড়া, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়ে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ টেক্সাসে চিকিৎসা সরঞ্জামও পাঠানো হচ্ছে।
মেক্সিকো ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৪৪৯টি স্ক্রুওয়ার্ম সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৯৪টি এখনো সক্রিয়।
১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এ পরজীবীর প্রাদুর্ভাব বন্যপ্রাণী ও পশুসম্পদে ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। তখন বিপুল সংখ্যক জীবাণুমুক্ত পুরুষ স্ক্রুওয়ার্ম মাছি ছেড়ে দিয়ে এদের নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল। তবে টেক্সাসে নতুন স্টেরাইল মাছি উৎপাদন কেন্দ্র চালু হতে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।