মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে কিনা—এমন প্রশ্ন উঠছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মিনেসোটার সেন্ট পল শহরে রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘স্কট’ হিসেবে পরিচিত ৫৬ বছর বয়সী চংলি থাও নামের এক মার্কিন নাগরিককে অস্ত্রের মুখে হাতকড়া পরিয়ে, অপর্যাপ্ত পোশাকে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বাড়ির বাইরে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
লাওসে জন্মগ্রহণকারী থাও একজন হমং বংশোদ্ভূত এবং ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি রয়টার্সকে জানান, ঘটনাটি ছিল ‘অপমানজনক’ এবং এ ঘটনা তাকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই ভুল করিনি। আমি প্রার্থনা করছিলাম—কেন তারা আমার সঙ্গে এমন করল?’ তিনি তখন শুধু অন্তর্বাস ও পায়ে স্যান্ডেল পরে ছিলেন। পোশাক পরার সুযোগ না দিয়ে তাকে বাইরে বের করে নেয়া হয়। পরে তিনি তার চার বছর বয়সী নাতির কম্বল দিয়ে শরীর ঢাকেন।
চংলি থাও। ছবি- রয়টার্স
আইসিই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ওই বাড়িতে দুইজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীকে খোঁজার জন্য অভিযান চালানো হয়েছিল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, অপরাধীদের চেহারার বর্ণনার সঙ্গে থাও ‘মিলে যাওয়ায়’ এবং নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিযানে যাদের খোঁজা হচ্ছিল তারা ওই বাড়িতে আর বসবাস করেন না। তাদের একজন থাও পরিবারের এক সদস্যের প্রাক্তন স্বামী।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি অভিবাসন অভিযানের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট উদাহরণ।
উল্লেখ্য, মিনেসোটা ডিসট্রিক্টে সম্প্রতি প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যেই এক ফেডারেল বিচারক সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু আগ্রাসী আইনপ্রয়োগ কৌশলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা প্রশাসন বর্তমানে আপিল করছে।
ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা আটক থাকার পর কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা ছাড়াই থাওকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
‘আমরা এই দেশে এসেছিলাম নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের আশায়,’ বলেন থাও। ‘যদি এটাই আমেরিকা হয়, তাহলে আমরা এখানে কেন?’