ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি), ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী বা অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে।

নামাজের সময় হামলাকারী মসজিদের নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। টেলিভিশন চিত্র ও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। বিস্ফোরণের পর মসজিদের ভেতরকার দৃশ্য ছিল বিভীষিকাময়—কার্পেটজুড়ে পড়ে ছিল নিহত ও আহত মানুষ।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত খাদিজা আল-কুবরা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজের সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬৯ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। ২০০৮ সালের ম্যারিয়ট হোটেল হামলার পর এটিই রাজধানীতে হওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা। খবর এপি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজের সময় হামলাকারী মসজিদের নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

টেলিভিশন চিত্র ও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর মসজিদের ভেতরকার দৃশ্য ছিল বিভীষিকাময়—কার্পেটজুড়ে পড়ে ছিল নিহত ও আহত মানুষ।

নামাজে অংশ নেয়া হুসাইন শাহ জানান, মসজিদের আঙিনায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। তিনি ভেতরে গিয়ে প্রায় ৩০টির মতো লাশ দেখার কথা উল্লেখ করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি), ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী বা অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়েছে, বিশেষত বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও টিটিপি-এর তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, হামলাকারী আফগানিস্তান সীমান্ত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিল। অন্যদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবিকে ‘অদায়িত্বশীল’ আখ্যা দিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। শিয়া নেতা রাজা নাসির এই ঘটনাকে নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেই বেলুচিস্তানে পৃথক হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে টিটিপি এবং আইএস প্রায়ই দেশটির সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।

বর্তমানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সফর চলাকালীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীতে এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।

আরও