মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহে ২৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয়ে হোয়াইট হাউজে নতুন বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই বিশাল প্রকল্পের অর্থায়নকারী দাতা ও করপোরেশনগুলোর পরিচয় নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে। খবর বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ কাজের একটি বড় অংশের খরচ বহন করবেন। এছাড়াও, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরিচয় প্রকাশ না করে কয়েকজন দাতা এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দিতে প্রস্তুত। দানের অর্থ গ্রহণের জন্য ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল নামের একটি অলাভজনক সংস্থা কাজ করছে।
তবে, একটি মাত্র উৎসের পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। আইনি নথিপত্র অনুসারে, ইউটিউব তার অ্যাকাউন্ট স্থগিতের মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে ২২ মিলিয়ন ডলার দেবে।
অর্থায়নের এ মডেলকে ঘিরে কিছু আইনি বিশেষজ্ঞের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘প্রবেশাধিকার কেনার’ সামিল হতে পারে। জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান নৈতিকতা বিষয়ক আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার ট্রাম্পের এ উদ্যোগকে ‘নৈতিকতার দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সম্ভাব্য দাতাদের জন্য নৈশভোজ। ছবি- এপি
গত ১৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সম্ভাব্য দাতাদের জন্য একটি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে ব্ল্যাকস্টোন, ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, কয়েনবেস, পালান্টিয়ার, লকহিড মার্টিন, অ্যামাজন এবং গুগলের মতো প্রভাবশালী মার্কিন কোম্পানিগুলোর সিনিয়র এক্সিকিউটিভরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নিউ ইয়র্ক জেটস এনএফএল দলের মালিক উডি জনসন এবং টাম্পা বে বুকানিয়ার্স ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক শারি ও এডওয়ার্ড গ্লেজারও ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের দাবি, নতুন এ সংস্কারের জন্য মার্কিন করদাতাদের কোনো খরচ হবে না এবং বলরুমটি ভবিষ্যৎ প্রশাসনও ব্যবহার করবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রক্রিয়াটি ‘পে-টু-প্লে’ বা প্রভাব কেনাবেচার এক নতুন নজির হতে পারে।