বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা উপকূলীয় শহর ও অঞ্চলগুলোর জন্য এক ভয়ংকর বিপদের সংকেত দিচ্ছে। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় খুব কম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিংশ শতাব্দীতে এ ধারা পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৯৯৩ সাল থেকে উপগ্রহের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এর নিরীক্ষা শুরু করেন।
১৯৯৩ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৪ ইঞ্চি বেড়েছে। নাসার উপগ্রহচিত্র ও তথ্য অনুসারে, গত বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। আর গত ৩০ বছরে বার্ষিক বৃদ্ধির হার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বর্তমান গতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হবে ৬ ইঞ্চি। আর যুক্তরাষ্ট্রে তা ১০ থেকে–১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২১০০ সালের মধ্যে এ বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে ৩ ফুট বা তার বেশি। বরফের চাদর এ ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
এর প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশ মহাসাগর শোষণ করে, ফলে জল উষ্ণ হয়ে প্রসারিত হয়। সেই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাদরগুলোও গলতে শুরু করে, যা ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২১৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে গলিত বরফ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বত্র সমানভাবে বাড়ছে না। আঞ্চলিক স্রোত, ভূমি পরিবর্তন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট কারণে কিছু অঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূল, বিশেষ করে লুইসিয়ানা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে ভূমি ক্ষয় এবং আপেক্ষিক সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী হারের চারগুণ। এছাড়া নিম্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ-টুভালু, কিরিবাতি ও ফিজি – এরই মধ্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আগামী তিন দশকে এসব স্থানে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা। উপকূলীয় বন্যা বেড়েছে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ জলের মধ্যে প্রবেশ করছে লবণাক্ত জল। ১৯৯০ সালের পর থেকে উচ্চ জোয়ারের বন্যা দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে। ভবিষ্যতে এমন সামান্য পরিবর্তনও ঘন ঘন ও স্থায়ী প্লাবনের কারণ হতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অবলম্বনে।