মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ১৮ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হামাসের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় 'শক্তিশালী হামলা' চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন। এর পরপরই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরা।
ইসরায়েলের দাবি, মঙ্গলবার গাজার দক্ষিণে ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও বন্দুক দিয়ে হামলা চালায়। তবে হামাস এই হামলার দায় অস্বীকার করে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
হামাস একজন জিম্মির দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এটি মূলত ওফির জারফাতির দেহাবশেষ, যা ইসরায়েলি সৈন্যরা দুই বছর আগে উদ্ধার করেছিল। হামাসের এই পদক্ষেপকে নেতানিয়াহু 'স্পষ্ট চুক্তি লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দেন, হামাসকে এ ঘটনার জন্য বহু গুণ বেশি মূল্য দিতে হবে।
এ হামলা সত্ত্বেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে, যদিও 'ছোটখাটো সংঘর্ষ' হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ায় ইসরায়েলকে 'পাল্টা আঘাত করা উচিত' বলে মন্তব্য করেছেন। হামলার আগে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাসকে সব ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে দিতে হবে। বিনিময়ে, ইসরায়েল প্রতিটি জিম্মির জন্য ১৫ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। হামাস এখন পর্যন্ত ১৫ জনের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিলেও এখনো বাকি ১৩ জনের দেহাবশেষ।
এদিকে, হামাসও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৮০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং জানিয়েছে যে, নতুন হামলার নির্দেশ জিম্মিদের দেহাবশেষ উদ্ধারের প্রচেষ্টাকে আরো বিলম্বিত করবে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এই পরিস্থিতিতে হামাসকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।