মার্কিন এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের বেশি ফি’র প্রস্তাব

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিদেশী পেশাজীবীরা বিশেষায়িত হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। আবেদনকারীদের অবশ্যই স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। এ ভিসার মেয়াদ তিন বছর এবং পরে আরো তিন বছর নবায়ন করা যায়

ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার জন্য এক লাখ তিন হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর কয়েক মাস আগে মার্কিন সরকারের এক লাখ ডলারের আবেদন ফি আরোপের আগের উদ্যোগটি একটি ফেডারেল আদালত বাতিল করেছিল। খবর সিএনএন।

গতকাল প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রশাসন বলেছে, অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয় ‘পুষিয়ে নিতে’ এ ফি নেয়া হবে। একইসঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরো বেশি স্থানীয় কর্মী নিয়োগ এবং তাদের বেশি বেতন দিতে উৎসাহিত করবে প্রস্তাবিত ফি।

তবে বিধিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি কার্যকর হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে প্রক্রিয়াটি আরো দীর্ঘ হতে পারে। প্রস্তাবটির বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য জনসাধারণের হাতে ৩০ দিন সময় থাকছে।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিদেশী পেশাজীবীরা বিশেষায়িত হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। আবেদনকারীদের অবশ্যই স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। এ ভিসার মেয়াদ তিন বছর এবং পরে আরো তিন বছর নবায়ন করা যায়।

অর্থনীতিবিদেরা বলে আসছেন, এইচ-১বি কর্মসূচি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়। মার্কিন আইনে প্রতিবছর ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য আরো ২০ হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কর্মসূচিটির অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে এবং এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশীয় কর্মী নিয়োগ থেকে বিরত থাকছে। গতকাল এক্সে দেয়া এক পোস্টে নতুন প্রস্তাবিত ফি সমর্থন করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কোনো মার্কিন কোম্পানির কর্মী প্রয়োজন হলে তাদের আমেরিকানদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

এইচ-১বি ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের শুরু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় কর্মসূচিটি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে এক লাখ ডলার ফি আরোপ করেন। এর আগে এই ফি ছিল প্রায় ৩ হাজার ডলার।

তবে গত জুনে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খায় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সরোকিন ওই ফি বাতিল করে দেন। বস্টনের এ বিচারক বলেন, এমন নীতি আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই; ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের শর্ত যুক্ত করার ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসের রয়েছে। সরোকিন এ ফি-কে কর হিসেবে বিবেচনা করেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ করা বিচারক সরোকিন তার রায়ে লেখেন, এইচ-১বি আবেদনের ওপর কর আরোপের কোনো ক্ষমতা বা অর্পিত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের ছিল না।

আরও