ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফ-টাইম শোতে শাকিরা, বিটিএস, জাস্টিন বিবার ও ম্যাডোনার পাশাপাশি পারফর্ম করবেন ইরাকে জন্ম নেয়া অস্ট্রেলীয় শিল্পী ইমানুয়েল কেলি। পরিত্যক্ত শিশু থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আসা তার জীবনগল্প এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে।
ফিফাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলি জানান, শিশু অবস্থায় তাকে একটি বাক্সে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে বাগদাদে মাদার তেরেসার পরিচালিত একটি এতিমখানায় তার বেড়ে ওঠা। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার শরীরের কয়েকটি অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়নি। সেখানেই একই ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলীয় মানবাধিকারকর্মী মইরা কেলি ওই এতিমখানা পরিদর্শনে গিয়ে দুই শিশুর চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০০ সালে ইমানুয়েল ও আহমেদকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিক অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পান। পরে মইরা কেলি তাদের দত্তক নেন এবং ২০০৯ সালে তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেন।
ফিফাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমানুয়েল বলেন, অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গের সাহায্যে তিনি প্রথমবারের মতো স্বাবলম্বী হতে পেরেছিলেন। এরপরই সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’-এ জন লেননের বিখ্যাত গান ‘ইমাজিন’ পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন তিনি। যদিও প্রতিযোগিতার শুরুতেই বাদ পড়েন। কিন্তু তার পরিবেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ দেখেন এবং সেখান থেকেই তার সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
অন্যদিকে তার ভাই আহমেদ কেলি পেশাদার প্যারা সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং টোকিও ২০২০ প্যারালিম্পিকে রৌপ্য পদক জিতেছেন।
২০১৬ সালে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন ইমানুয়েলের গান শুনে তাকে মেলবোর্নে কনসার্টে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে দুজনে একসঙ্গে ‘ইমাজিন’ পরিবেশন করেন। এরপর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে কোল্ডপ্লের ‘মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্স’ সফরের অস্ট্রেলিয়া অংশে উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবেও পারফর্ম করেন কেলি।
গত বছর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রথম ফিফা হাফ-টাইম শোতেও পারফর্ম করেন তিনি। আয়োজকরা তাকে ফিফার হাফ-টাইম শোর ইতিহাসে প্রথম ভিন্নভাবে সক্ষম প্রধান পারফর্মার হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই ভেন্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এবারও হাফ-টাইম শোর সৃজনশীল দায়িত্বে রয়েছেন ক্রিস মার্টিন এবং তার আমন্ত্রণেই আবারও মঞ্চে উঠবেন ইমানুয়েল কেলি।
বিশ্বকাপের হাফ-টাইম শোর আগে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেলি বলেন, ‘বিশ্বের সামনে প্রকৃত ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করার এটি অসাধারণ একটি সুযোগ। আপনি দেখতে যতই ভিন্ন হোন না কেন, আপনার জন্যও এই পৃথিবীতে একটি জায়গা রয়েছে।’
-আল জাজিরা