যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং টেলিফোনে কথা বলেছেন। গতকাল এ দুই নেতার ফোনালাপ হয়। ৯০ মিনিটের ফোনালাপের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, ‘ফোনালাপটি গঠনমূলক ছিল এবং শির সম্মতি প্রশংসনীয়।’ তিনি আরো জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাক্ষাতের পর তিনি পরের বছর চীন সফর করবেন এবং এরপর শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। খবর বিবিসি, সিসিটিভি ও শিনহুয়া।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটা ট্রাম্পের দ্বিতীয় ফোনালাপ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টিকটক ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। চীনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো অবস্থায় রয়েছে।’
এর আগে গত ৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, প্রেসিডেন্ট শি তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাল্টা আমন্ত্রণে ট্রাম্পও শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আহ্বান জানান। তবে এরপর দুই নেতার পক্ষ থেকে কোনো সফরের পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গতকালের ফোনালাপে শি জিনপিং আবারো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।
টিকটকের মালিকানা হস্তান্তরের আলোচনার সূচনা হয়েছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে।
গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের বাণিজ্য উপমন্ত্রী লি চেংগ্যাং জানান, স্পেনের মাদ্রিদে বৈঠকের সময় টিকটক বিক্রির জন্য একটি প্রাথমিক কাঠামোতে দুই দেশ একমত হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে চালু থাকবে। চুক্তি হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা টিকটকের অন্তত ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনবেন, বাকি ২০ শতাংশ থাকবে চীনা বিনিয়োগকারীদের হাতে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় আইনে বলা হয়েছিল—টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে অন্তত ৮০ শতাংশ শেয়ার মার্কিন হাতে দিতে হবে। আইন কার্যকর হওয়ার আগেই ট্রাম্প বারবার সময় বাড়িয়ে দেন এবং বিকল্প সমাধানের চেষ্টা করেন।