হংকংয়ের তাই পো ডিসট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট বহুতল আবাসন কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজও (রোববার) স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৮ জনের বেশি এবং ১৫০ জনেরও বেশি নিখোঁজ। ট্র্যাজেডি থেকে উৎসারিত ক্ষোভ যেন দানা বাঁধতে না পারে এবং কোনো ধরনের অস্থিরতা বা প্রতিবাদ সৃষ্টি যেন না হয় সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনা কেন্দ্রীয় সরকার। খবর রয়টার্স।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি জবাবদিহিতা, সম্ভাব্য দুর্নীতির স্বাধীন তদন্ত, বাসিন্দাদের সঠিক পুনর্বাসন এবং নির্মাণ তদারকির পর্যালোচনার দাবিতে হংকংয়ে একটি গোষ্ঠী অনলাইনে পিটিশন (আবেদন) শুরু করেছিল। জানা গেছে, শনিবার এ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকা এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মিলস কোয়ান (২৪) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তাই পোর ওই আগুন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রদ্রোহ উসকে দেয়ার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিটিশনটি বন্ধ করে দেয়ার আগে শনিবার বিকাল নাগাদ ১০ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বেইজিংয়ের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর এমন একটি দুর্যোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ দানা বাঁধতে থাকায় কর্তৃপক্ষ যেকোনো বড় ধরনের জনরোষ এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চীনা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ শনিবার স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যেন এই বিপর্যয়কে ব্যবহার করে শহরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা না করে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—
‘আমরা চীনবিরোধী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করছি, যারা দুর্যোগের মাধ্যমে হংকংকে অস্থির করতে চাইছে। আপনারা যে পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ অধ্যাদেশের অধীনে আপনাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি পেতে হবে।‘
প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীরা ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সে সংস্কার কাজের সময় সম্ভাব্য দুর্নীতি এবং অনিরাপদ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ হাজার ৬০০-এরও বেশি লোকের আবাসস্থল ওয়াং ফুক কোর্ট এস্টেটে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার অ্যালার্মগুলো সঠিকভাবে কাজ করছিল না।