পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আগামী বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র বেশিসংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে।

আগামী বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র বেশিসংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে। চীন, রাশিয়াসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশের ক্রমাগত হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা প্রণয় ভাদ্দি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রণয় ভাদ্দি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। দেশটির আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ভাদ্দি বলেন, ‘বারবার অনুরোধ করার পরও প্রতিপক্ষ দেশগুলোর অস্ত্রাগারে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তাই আমরা নিজেরাই আগামী বছরগুলোয় নিজেদের অস্ত্র মোতায়েনে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন বোধ করেছি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা কার্যকর করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।’

ভাদ্দির দেয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতিতে পরিবর্তনের কথাই উঠে এল। অস্ত্রভাণ্ডার সীমিত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান থেকে মস্কো ও বেইজিংকে সরিয়ে আনাই এর উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাদ্দি বলেন, ‘যদি আমরা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করি, তাহলে বুঝতে হবে যে শত্রুদের ঠেকাতে ও মার্কিন জনগণ, মিত্র ও অংশীদারদের রক্ষা করার জন্য আমাদের আরো পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বাইডেন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রণয় ভাদ্দি। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্রুততার সঙ্গে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে এবং বৈচিত্র্যময় করছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দেশগুলোর তেমন আগ্রহ নেই।

হোয়াইট হাউজের এ কর্মকর্তার দাবি, ‘এ তিন দেশ এবং ইরান এমনভাবে পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াচ্ছে, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরোধী। এটি যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের হুমকিতে ফেলছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।’

এক বছর আগে এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছিলেন, ‘রাশিয়া ও চীনের অস্ত্রের হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।’ সে সময় তিনি দেশ দুটিকে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

রাশিয়ার সঙ্গে ২০১০ সালে সম্পাদিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে। যদিও যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে গত বছর এ চুক্তি থেকে রাশিয়া নিজেদের সরিয়ে নেয়। মস্কোর এ সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন।

আরও