ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দেখা দিচ্ছে মতপার্থক্য। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জানা গেছে, সামরিক সংঘাতের আশংকার মধ্যেই মার্চের শুরুতে ফের আলোচনায় বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আভাসের মধ্যেই চলতি মাসে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মেটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আলোচনায় বসে। এদিকে মার্কিন বাহিনী আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
ইরানের ওই কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলছে, আলোচনার শেষার্ধে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি ও প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা এবং ইরানের দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলতে হলে উভয় পক্ষকে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। তা হতে হবে যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তিনি আশা করছেন কয়েক দিনের মধ্যেই একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুত হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা ভাবছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করলেও সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখে। যা ইরান সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের স্বীকৃতি চায়।
ওয়াশিংটন ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে। গত বছর জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা অনুমান করেছিল যে, ইরানের ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ৪৪০ কেজির বেশি।
ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের স্বীকৃতির বিনিময়ে তেহরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের একাংশ রপ্তানি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা কমানো এবং একটি আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ জোট গঠনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে। যেহেতু আলোচনা চলছে, এতে অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি কূটনৈতিক সমাধান তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের জন্যই অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ অর্জনের সুযোগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান তার তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেবে না। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে, এর বেশি কিছু নয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো সর্বদা ইরানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে ঠিকাদার হিসেবে অংশ নিতে পারে।