যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে সুনামির ঢেউ। জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপের উত্তর উপকূলের হালেইওয়া অঞ্চলে পানির উচ্চতা ৪ ফুটেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আরো ঢেউ আসার সঙ্গে সঙ্গে পানির স্তর ওঠানামা করবে। সেইসঙ্গে নতুন ঢেউগুলো আরো বেশি শক্তিশালী হতে পারে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উচ্চ সতর্কতায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে হাওয়াইয়ের বন্দর থেকে সব বাণিজ্যিক জাহাজ সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ‘সব বন্দরেই বাইরে থেকে আসা জাহাজ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ হনলুলুর কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে দ্রুত বন্দর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সকালে রাশিয়ার উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সেভেরো-কুরিলস্ক জেলার দিকে একাধিক সুনামি ঢেউ আঘাত হানে। রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের এই দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ঢেউয়ের ফলে শিল্প অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, পানির তোড়ে ভেসে গেছে বড় বড় ধ্বংসাবশেষ।
জাপানের পূর্ব উপকূলের বিস্তৃত এলাকাতেও সুনামি আঘাত হেনেছে। হোক্কাইডো থেকে শুরু করে প্রধান দ্বীপ হনশুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল, এমনকি টোকিও মহানগরীর কাছাকাছিও পৌঁছেছে সুনামির ঢেউ। প্রাথমিকভাবে ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হলেও এখন পর্যন্ত ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশটির ২১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে মোট ১৯ লাখেরও বেশি মানুষকে স্থানীয়ভাবে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হোক্কাইডোতে অনেককে ভবনের ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে আরো বেশ কয়েকটি দেশ সুনামি সতর্কতা, পর্যবেক্ষণ ও সর্তকতা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, পেরু, ইকুয়েডর, মেক্সিকো, পানামা এবং তাইওয়ান।