‘আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি’, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ট্রাম্প

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। সরকারি এ তথ্য এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে কিনা, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গতি প্রত্যাশার তুলনায় বেড়েছে, যা নিয়ে দেশটিতে ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ। এর বিপরীতে ৪ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির তথ্যকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে গতকাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি’। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেই দাম কমে আসবে। খবর রয়টার্স।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। সরকারি এ তথ্য এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে কিনা, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।’

এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও গোপনে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের একটি পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। ট্রাম্প ওই অভিযানকে সফল বলেও দাবি করেন।

বৃহত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘যখন এটি শেষ হবে, তখন আপনারা দেখবেন জ্বালানি তেলের দাম আগের অবস্থানে ফিরে যাবে। এটি কমছে। পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে আসবে।’

ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে একটি সাময়িক বিচ্যুতি হিসেবে উল্লেখ করেন। আবার বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বলেও তুলে ধরেন। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার ফলে পেট্রল, সার ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানো থেকে বিরত থাকতে পারে। অথচ গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ঋণের খরচ কমাতে সুদহার হ্রাসের আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প।

রিপাবলিকানরা বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। তবে দলটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। কিন্তু এর পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলায় তার ভূমিকা নিয়ে জনসমর্থন কমেছে। এমনি তার কর্মকাণ্ড অনুমোদনের হার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পণ্য পরিবহনের জন্য ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু করতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। শিল্পখাতের নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দামে আরেকটি বড় ধাক্কা আসতে পারে, যা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।

গত মাসে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। ওই সময় মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক দুরবস্থাকে গুরুত্ব না দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবি না। আমি কারো কথা ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভাবি—আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না।’

আরও