ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তিক্ততা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে ‘মাদক পাচারের’ অভিযোগে নৌযানে মার্কিন হামলা, হত ১১

দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক বহনের দায়ে অভিযুক্ত একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মঙ্গলবারে সংঘটিত এ হামলায় ১১ মাদকপাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলাভিত্তিক গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়ার সদস্যরা নৌযানটিতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য মাদক পরিবহন করছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে দাবি করেছেন তিনি। খবর বিবিসি।

সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা এখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের তথ্য দিলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকোলাস মাদুরো। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা মার্কিন যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি একটি মাদকবাহী নৌযানে"হামলা চালিয়েছে। নৌযানটিতে করে প্রচুর পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছিল।

নৌযানটিতে কী ধরনের মাদক পাচার হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ট্রুথ সোশ্যাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই সময় বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তাকে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেন, ‘আজ সকালে আমার নির্দেশে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড (সাউথকম) ত্রেন দে আরাগুয়ার মাদক সন্ত্রাসীদের (নার্কোটেররিস্ট) বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১১ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। মার্কিন কোনো বাহিনীর ক্ষতি হয়নি। যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের কথা ভাবছে তাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা।’"

তার পোস্টের সঙ্গে একটি অস্পষ্ট ভিডিও সংযুক্ত ছিল। এতে উত্তাল সাগরের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুটে যাওয়া একটি নৌযান আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রী ফ্রেডি নুনেজ দাবি করেন, ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক পরীক্ষায় এখনো ভিডিওটিতে কোনো কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তাদের যাচাই-বাছাই এখনো চলমান রয়েছে। আর নৌযানটিতে কী ধরনের মাদক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেক্সিকো ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি মাদক পাচার ও অপরাধে অভিযুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যমতে, ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে এ অভিযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত রায় দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের বিতাড়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ১৮ শতকের যুদ্ধকালীন একটি আইনের প্রয়োগ ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টিকে ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ ছাড়াও ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ‘কার্টেল অব দ্য সানসের’ বিরুদ্ধেও জোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরো এবং ভেনিজুয়েলার সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দুই মাস ধরে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেখানে আরো অতিরিক্ত সামরিক নৌযানের পাশাপাশি কয়েক হাজার মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোয় এমন আরো কিছু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিবৃদ্ধির বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে ভেনেজুয়েলা। এর আগে গত সোমবার নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে গোটা প্রজাতন্ত্রকে অস্ত্রসজ্জিত করবেন তিনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন এই মহাদেশের জন্য গত এক শতকে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় হুমকি।’

আরও