জাপানে উচ্চকক্ষে নিয়ন্ত্রণ হারাল শাসক জোট, চাপে প্রধানমন্ত্রী ইশিবা

‘ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এলডিপি ভুল দিকে ছিল,’ বলেন ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী কোমেইতো মিলে নির্বাচনে ৪৭টি আসন পেয়েছে, যেখানে ২৪৮ আসনের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দরকার ছিল অন্তত ৫০টি আসন। এর আগে অক্টোবর মাসে নিম্নকক্ষের নির্বাচনেও জোটটি ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করে।

জাপানের শাসক জোট রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চকক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক আলোচনার দোহাই দিয়ে তিনি নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী কোমেইতো মিলে নির্বাচনে ৪৭টি আসন পেয়েছে, যেখানে ২৪৮ আসনের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দরকার ছিল অন্তত ৫০টি আসন। এর আগে অক্টোবর মাসে নিম্নকক্ষের নির্বাচনেও জোটটি ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করে। এর ফলে সরকারের ওপর অনাস্থা প্রস্তাব এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ বেড়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এনএইচকেতে ইশিবা বলেন, তিনি ‘গভীরভাবে’ এই ‘কঠোর ফলাফল’ মেনে নিচ্ছেন। পরে টিভি টোকিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক আলোচনার মধ্যে আছি। এ আলোচনাগুলো ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। জাতীয় স্বার্থে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে হবে।‘

আগামী ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে, জাপানের রফতানি পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক বসতে পারে।

জাপানের প্রধান বিরোধীদল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি নির্বাচনে ২২টি আসন পেয়েছে। উল্লেখ্য, ডানপন্থী জনতাবাদী সানসেইতো দল এবার মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে ১৪টি আসন জিতেছে।

নির্বাচনে ভোক্তা কর কমানো এবং সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেয়া বিরোধীদলগুলো ভোটারদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে চালের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে জনগণের ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে।

‘ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এলডিপি ভুল দিকে ছিল,’ বলেন ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং। তিনি আরো বলেন, ‘ভোটারদের বড় অংশ চায় মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় ভোক্তা কর কমানো হোক, যা এলডিপি মেনে নেয়নি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা জোর প্রচার চালায়।‘

সরকার ঋণের বোঝা মাথায় রেখে ব্যয়সংযমে থাকতে চাইলেও এখন নীতিনির্ধারণে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। এতে জাপানের অর্থনৈতিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরো বাড়বে পারে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

করোনা মহামারির সময় টিকা ও বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে আলোচনায় আসা সানসেইতো দল এবার অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে মূল রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে। দলটিকে এখন জার্মানির আফদি ও ব্রিটেনের রিফর্ম ইউকের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

আরও