নেপাল ট্র্যাজেডি

টানেলে নয়দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার দুই জলবিদ্যুৎকর্মী

কর্মকর্তারা জানান, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আরো ৩৯ জন আটক থাকতে পারেন, তবে তারা বেঁচে আছেন কিনা, সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন। নেপালের এ ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৭ জন মারা গেছেন এবং নিখোঁজ ৫ হাজার জনেরও বেশি। খবর কাঠমান্ডু পোস্ট ও বিবিসি।

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নয়দিন আটকে থাকার পর গতকাল দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন প্রকল্পে কর্মরত যান্ত্রিক ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহারাজন। গত ২৬ আগস্ট প্রকল্প এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ার পর থেকে তারা সেখানে আটকে ছিলেন।

কর্মকর্তারা জানান, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আরো ৩৯ জন আটক থাকতে পারেন, তবে তারা বেঁচে আছেন কিনা, সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন। নেপালের এ ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৭ জন মারা গেছেন এবং নিখোঁজ ৫ হাজার জনেরও বেশি। খবর কাঠমান্ডু পোস্ট ও বিবিসি।

সপ্তারি জেলার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয় শাহ নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) কর্মী। বন্যার সময় তিনি প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরের বাসিন্দা কবির মহারাজন কুলেখানি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে গিয়েছিলেন। জলবিদ্যুৎ অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় তিনি যান্ত্রিক সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।

বন্যার সময় কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন সঞ্জয় শাহ। ভূগর্ভস্থ এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করলে কর্মীরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহের প্রধান লক্ষ্য ছিল সহকর্মীদের নিরাপদে বের করে দেয়া। উদ্ধার হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘সাধারণত সেখানে পাঁচ-ছয়জন মানুষ থাকে কিন্তু ওই সময় ৪০-৪৫ জন ছিলেন।’

সহকর্মীদের বের হতে সাহায্য করতে গিয়ে নিজে বের হওয়ার সুযোগ হারান। সঞ্জয় শাহ বলেন, ‘তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। এতে আমার সময় চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আমি বের হতে পারিনি।’

সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিমকে শাহ জানান, ভূগর্ভে আটকে থাকার সময় তিনি প্রার্থনা করতে থাকেন। যেখানে তিনি আটকা পড়েছিলেন, তার আরো গভীরে অন্য লোকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

২৬ আগস্ট বন্যার কিছুক্ষণ আগে সকাল ৭টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তার বোন সুধা জানান, প্রায় ৩ মিনিট তাদের কথা হয়েছিল। ওই সময় শাহ প্রকল্পের ভেতরের কিছু যন্ত্রপাতি পরিবারের সদস্যদের দেখান। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কার্যালয় ও বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে তার খোঁজ নেন এবং উদ্ধার অভিযান চালানোর দাবি জানান। জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর তারা কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজন ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে স্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য তিনি কুলেখানি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। তার ভাই আমির জানান, মহারাজন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটিতে কাজ করছেন।

উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই দুই কর্মীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাদের বিমানে কাঠমান্ডু নেয়া হয়। দুজনের হাতে ও পায়ে চোট রয়েছে। মহারাজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কাঠমান্ডুর বিরেন্দ্র সেনা হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সঞ্জয় শাহের অবস্থা স্থিতিশীল। তাকেও সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং সেখানে তার আরো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আরও