যুদ্ধের মধ্যেও জ্বালানী তেল খাতে দ্বিগুণের বেশি মুনাফা করেছে বিপি

বিপির এ অভাবনীয় সাফল্যের খবরে মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই লন্ডনভিত্তিক জ্বালানি জায়ান্ট ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড), যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। খবর বিবিসি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৩ ডলার। যুদ্ধের পর তা এক পর্যায়ে ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকে। বর্তমানে এর দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের আশেপাশে ওঠানামা করছে।

বাজারের এ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিপির তেল ট্রেডিং শাখা বিপুল মুনাফা করেছে। গত বছর এ খাতে আয় মাত্র ১০৩ মিলিয়ন ডলার থাকলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। বিপির এ অভাবনীয় সাফল্যের খবরে মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিপির নতুন প্রধান নির্বাহী মেগ ও’নিল গত এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই প্রতিষ্ঠানের প্রথম আর্থিক ফলাফল। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেও বিপি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন জানিয়ে ও’নিল বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যেখানে জ্বালানির প্রয়োজন, সেখানে তা পৌঁছে দিতে ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিপি গ্রাহক ও সরকারগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মুনাফা বাড়লেও বিপি জানিয়েছে, তাদের মূল উৎপাদন ব্যবস্থা বা তেল উত্তোলন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আগামী এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে উৎপাদন আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা।

বিপির এই বিশাল মুনাফা সাধারণ মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এ ‘উইন্ডফল প্রফিট’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত মুনাফার কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের অভিমত, বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে জ্বালানি দানবরা আবারও পকেট ভারি করছে। অথচ সাধারণ মানুষকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।"

আরও