কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমাদের
অভিযোগকে ভণ্ডামি বললেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি
ইনফান্তিনো। আজ শনিবার দেশটির রাজধানী দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঘণ্টাব্যাপী বক্তৃতায়
নিজের মত তুলে ধরেন তিনি। খবর বিবিসি।
অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু ও এলজিবিটিকিউ-র
মতো সংখ্যালুঘু যৌনাভ্যাস নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে কাতার। বিশ্বকাপের
মতো বড় আয়োজনও ম্নান হয়ে গিয়েছে মিডিয়া কাভারেজে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের মিডিয়াগুলো
ভীষণ সরব।
ইনফান্তিনো বলেন, কাতারের অভিবাসী শ্রমিকদের
প্রতি মনোযোগ না দিয়ে ইউরোপের উচিৎ অতীতে নিজেদের করা অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
নিজেকে কাতারি, আরব, আফ্রিকান, সমকামী, প্রতিবন্ধী,
একজন অভিবাসী শ্রমিকের মতো মনে হচ্ছে বলেও জানান।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে দ্য
গার্ডিয়ান জানায়, কাতার আয়োজক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সাড়ে ছয় হাজার অভিবাসী
কর্মী মারা গিয়েছে। যারা এসেছেন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা থেকে।
দেশগুলোর দূতাবাস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়।
তবে কাতার সরকার বলছে, এই সংখ্যা বিভ্রান্তিকর।
মৃতদের সবাই বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, আমি ইউরোপীয়।
আমরা বিশ্বজুড়ে তিন হাজার বছর ধরে যা করছি, নৈতিক শিক্ষা দেয়ার আগে আগামী তিন হাজার
বছর আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
ইউরোপে অভিবাসন সহজ করার কথাও বলেন তিনি।
ফিফা প্রেসিডেন্টের মতে, ইউরোপ যদি সত্যিই অভিবাসীদের নিয়ে চিন্তা করে, তবে তারা কাতারের
মতো আইনি কাঠামো তৈরি করুক। একই সংখ্যক কর্মী যেন ইউরোপে গিয়ে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, একপক্ষীয় নীতিবাক্য কেবলই ভণ্ডামি।
আমি অবাক হই, ২০১৬ সাল থেকে কাতারে যে অগ্রগতি হয়েছে তা নিয়ে কেউ কথা বলেন না।
কাতারের পক্ষ নিয়ে জবাব দিচ্ছেন না বলেও জানান
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, কাতার নিজেদের রক্ষা করতে পারে। আমি ফুটবলকে সমর্থন
করছি।
আরো বলেন, এটা ঠিক যে, আমি কাতারি, আরব, আফ্রিকান,
সমকামী, প্রতিবন্ধী বা অভিবাসী কর্মী নই। কিন্তু আমি তাদের মতো অনুভব করি, কারণ আমি
জানি ভিনদেশে বৈষম্যের শিকার হওয়ার মানে কী।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী কর্মীদের জন্য নেয়া
কাতারের বিভিন্ন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। সে সব পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন
তিনি।
আগামীকাল রোববার আল বায়াত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক
কাতারের বিরুদ্ধে ইকুয়েডরের খেলা দিয়ে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ।