ইউএস সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, গতকাল হোয়াইট হাউজের একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে গুলি চালানো এক ব্যক্তি কর্মকর্তাদের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত এক মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশপাশে এটি ছিল তৃতীয় গোলাগুলির ঘটনা। খবর এপি।
মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে দেয়া প্রাথমিক বিবৃতিতে সিক্রেট সার্ভিস জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় ওই ব্যক্তি ‘ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে’ গুলি চালাতে শুরু করেন। পরে কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি চালালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আহত হন। হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তির নাম নাসিরে বেস্ট। তার বয়স ২১ বছর। তদন্ত চলমান থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ তথ্য দেন।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেস্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি অনুমতি ছাড়া হোয়াইট হাউজের আরেকটি নিরাপত্তা চৌকিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ অমান্য করেন। তখন তিনি নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্ট’ বলে দাবি করেছিলেন এবং গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন।
এরপর আদালতে প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে ‘প্রিট্রায়াল স্টে অ্যাওয়ে অর্ডার’ জারি করা হয়, যা সাধারণত বিচার শুরুর আগে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার কাছাকাছি যেতে নিষেধ করে। কিন্তু পরবর্তী শুনানিতে হাজির না হওয়ায় আগস্টে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।
গত এক মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে এটি ছিল তৃতীয় গোলাগুলির ঘটনা। এর আগে এপ্রিলে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ডিনার চলাকালে এবং চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন মনুমেন্টের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে।
শনিবারের ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি সন্দেহভাজনের ছোড়া গুলিতে নাকি কর্মকর্তাদের পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা আহত হননি এবং ঘটনার সময় হোয়াইট হাউজে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘প্রভাবিত হননি’।
এদিন সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজে কর্মরত সাংবাদিকরা জানান, তারা পরপর গুলির শব্দ শুনেছেন এবং পরে তাদের প্রেস ব্রিফিং কক্ষে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
ঘটনার পর হোয়াইট হাউজ কমপ্লেক্সের বাইরে ফুটপাতে হলুদ ক্রাইম সিন টেপ টানানো দেখা যায়। এছাড়া মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ডজনখানেক কমলা রঙের এভিডেন্স মার্কার স্থাপন করেন। সেখানে বেগুনি সার্জিক্যাল গ্লাভসসহ জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও দেখা যায়।