ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, তাকে তেহরানের ‘অত্যন্ত গুরুত্বের’ সঙ্গে নেয়া উচিত বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা। ফক্স নিউজের এক বিশ্লেষণে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এবং ফক্স নিউজের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্ট জ্যাক কিন তার মূল্যায়নে জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে গত ৪৫ বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ইরানের শাসকের জায়গায় থাকতাম, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতাম।‘
তিনি আরো বলেন, ‘গত এক বছরের ঘটনাবলি দেখার পর কেউ যদি ট্রাম্পের কথাকে গুরুত্ব না দেয়, তবে তা হবে হঠকারিতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। প্রেসিডেন্ট যা বলছেন, তিনি সেটি করার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না।‘
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো বা হত্যার ঘটনা ঘটলে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রস্তুত ও সজ্জিত’। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই হস্তক্ষেপ সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং এমন জায়গায় আঘাত করা হবে যেখানে ইরান সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জেনারেল জ্যাক কিন তার বিশ্লেষণে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন কেন ইরান এখন কোণঠাসা। প্রথমত, ইরানের বর্তমান সরকার জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, সিরিয়ায় ইরান তাদের শক্ত অবস্থান হারিয়েছে। তৃতীয়ত, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো ইরানের শক্তিশালী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে নেতৃত্বহীন এবং প্রায় নির্মূল হওয়ার পথে।
যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই হুমকিকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিনীদের এই কঠোর অবস্থান বিক্ষোভকারীদের আরো সাহসী করে তুলতে পারে। এরইমধ্যে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৪৪ ছাড়িয়েছে। আর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক।