ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি বরাদ্দ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত দু'দেশের মধ্যকার সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কিনা এমন প্রশ্নে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। এ সিদ্ধান্ত আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।
আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ছিল গতকাল সোমবার। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সরকার।
বিষয়টি নিয়ে এবিপির এক সাংবাদিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অন্য দেশে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি ইউরোপে পাড়ি দেয়া প্রসঙ্গে যে নীতির কথা বলেছেন তা ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না?
এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এটি (অনুপ্রবেশ) তার অন্যতম। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এমন ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত মনে করে, তারা সবাই বাংলাদেশী। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ওই বিষয়ে কিছু জানায়নি।
তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিতে তাদের অনুরোধ করেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিষয়ে আগের সরকারের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট করবে কি না? এর জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বিশ্বের যেখানে যেকোনো স্থানে যেকোনো ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হয়। এ ক্ষেত্রেও সেই নজর রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে পারস্পরিক স্বার্থই প্রাধান্য পায়।