ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার সময় কিউবার অন্তত ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কিউবা সরকার। নিহতদের সবাই দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিউবায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
কিউবা ও ভেনিজুয়েলা দীর্ঘদিনের মিত্র। তেলের বিনিময়ে কিউবা ভেনিজুয়েলাকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে আসছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেন, ভেনিজুয়েলার অনুরোধে কিউবার নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের স্বদেশিরা মর্যাদা ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে কিংবা বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো বোমা হামলার ফলে, তীব্র প্রতিরোধের পর নিহত হয়েছেন।
শনিবার কারাকাসে মাদুরোর আবাসিক কম্পাউন্ডে চালানো মার্কিন অভিযানে মোট কতজন নিহত হয়েছেন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ভেনেজুয়েলা সরকার। এক অজ্ঞাত ভেনিজুয়েলান কর্মকর্তার বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং তা আরো বাড়তে পারে।
এদিকে, সংশয় দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রতিপক্ষ কিউবার বিরুদ্ধেও একই ধরনের সামরিক অভিযান বিবেচনা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, কিউবা এখন পতনের জন্য প্রস্তুত। দেশটির আর কোনো আয় নেই। তারা ভেনেজুয়েলার তেল থেকেই আয় করত, এখন সেটাও পাচ্ছে না। কিউবা কার্যত ভেঙে পড়ার পথে।
এর একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবাকে একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন। সেইসঙ্গে দেশটি পরিচালনাকারীদের ‘অযোগ্য ও বার্ধক্যগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করেন।
গত বছরের জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি স্মারক স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময় নেয়া কিউবার ওপর চাপ শিথিল করার উদ্যোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া কিউবা ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেয়া হয়।