তুরস্ক হয়ে ইরাকের তেল রফতানি পুনরায় শুরু, বিশ্ববাজারে কমল দাম

আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, আর মার্কিন তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৯৩ ডলার ৪২ সেন্টে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির, তখন বিশ্ববাজারে এক পশলা স্বস্তির হাওয়া নিয়ে এলো ইরাক ও তুরস্কের মধ্যকার নতুন চুক্তি। কুর্দিস্তান অঞ্চলের পাইপলাইন ব্যবহার করে পুনরায় তেল রফতানির বিষয়ে বাগদাদ ও আঙ্কারা একমত হওয়ায় আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের কিরকুক তেলক্ষেত্র থেকে তুরস্কের সেয়হান বন্দর পর্যন্ত পাইপলাইনটি পুনরায় সচল হয়েছে, যা উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল সরবরাহের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প পথ তৈরি করল।

তবে তেলের এই সরবরাহ বৃদ্ধি আংশিক স্বস্তি দিলেও পুরোপুরি শঙ্কা কাটছে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে ইরাকের তেল উৎপাদন দৈনিক মাত্র ১৪ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ। আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, আর মার্কিন তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৯৩ ডলার ৪২ সেন্টে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তাদের সরবরাহ রুট পুনর্গঠন করছে।

তেলের দাম কমার এই ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারে। জাপানের নিক্কেই সূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অধীর আগ্রহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের অপেক্ষায় আছেন। আশা করা হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত রাখবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বালানি তেলের দামের পতনের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার বাজারে যে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে, তা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও