কেন রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় দেশগুলো

দেশের রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে বোর্নিও দ্বীপে নিতে একটি আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার সংসদ। সম্প্রতি সংসদে ভোটাভুটি শেষে বিলটি পাস হয়। এবারই প্রথম কোনো দেশ রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন নয়।

দেশের রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে বোর্নিও দ্বীপে নিতে একটি আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার সংসদ। সম্প্রতি সংসদে ভোটাভুটি শেষে বিলটি পাস হয়। এবারই প্রথম কোনো দেশ রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন নয়। এর আগেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে বেশকিছু দেশকে। কিন্তু কেন এভাবে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় দেশগুলো? বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কারণগুলো।

ইন্দোনেশিয়া: জাকার্তা থেকে তাদের রাজধানী সরিয়ে নেয়ার কারণ খুব একটা অজানা নয়। প্রতি বছর থেকে ১৫ সেন্টিমিটার দেবে যাচ্ছে জাকার্তা। শহরের অর্ধেক এখন সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে। এখানে যানজটের অবস্থাও ভয়াবহ। ফলে সময়মতো মিটিংয়ে পৌঁছতে মন্ত্রীদের পুলিশি পাহারা নিতে হয়। তিন কোটি জনসংখ্যার শহরে মাত্র - শতাংশ ময়লা পানি বিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এসবই রাজধানী স্থানান্তরে প্রভাবিত করেছে জাকার্তাকে।

ভারত: ১৯৩১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে নয়াদিল্লিতে নেয়া হয়। কলকাতা ভারতের পূর্ব উপকূলীয় অংশে অবস্থিত আর নয়াদিল্লি উত্তর অংশে। ব্রিটিশ সরকার ভেবেছিল, দিল্লি থেকে ভারত শাসন করা বেশি সহজ হবে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কাজাখস্তান: ১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ সিদ্ধান্ত নেন, দেশের প্রধান শহর আলমাটি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেবেন। বিকল্প হিসেবে তার পছন্দ ছিল হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তরের ধুলোমাখা এক প্রদেশ। শহরটির নাম প্রথমেই তিনি আকমোলা থেকে বদলে আস্তানা করেন। পরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে শহরটির নামকরণ হয় নূর সুলতানের নামেই।

পাকিস্তান: করাচি থেকে ইসলামাবাদে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানেরও। করাচি থেকে রাজধানী স্থানান্তরের কারণ ছিল, তা পাকিস্তানি জনগণের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করবে, এটি করাচির ব্যবসায়িক বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আলাদা এবং পুরো দেশ থেকেই সেখানে প্রবেশ করা যায়।

মিয়ানমার: নেপিদো শহরটি লন্ডনের তুলনায় চার গুণ বড়, কিন্তু জনসংখ্যা অনেক কম। ঠিক কী কারণে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে নেপিদোয় রাজধানী সরানো হয়েছে, সেটা কখনো পরিষ্কার করে বলেনি মিয়ানমার। সে সময় দেশটির তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অবস্থান কৌশলগত দিক দিয়ে ভালো।

বলিভিয়া: বলিভিয়ার রাজধানী দুটি। একটি সুকরে, অন্যটি লা পাজ। ১৮৯৯ সালে লা পাজের সঙ্গে ছোট গৃহযুদ্ধে হেরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সুকরেই ছিল দেশের মূল রাজধানী। এরপর বলিভিয়ার সংসদ সিভিল সার্ভিস লা পাজে সরে যায় আর বিচার বিভাগ থেকে যায় সুকরেতে। 

নাইজেরিয়া: ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগোস ছিল দেশটির রাজধানী। তখন সেটা স্থানান্তর করা হয় আবুজায়। এর পেছনে অনেক কারণ ছিল। প্রথমত, ভৌগোলিক অবস্থান। আবুজা ছিল দেশটির কেন্দ্রে। লাগোস ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। যেখানে লাগোস গড়ে উঠেছিল প্রাকৃতিকভাবে সেখানে আবুজা ছিল পরিকল্পিত শহর। আর যানজটও তীব্র ছিল লাগোসে।

পর্তুগাল: লিসবনের আগে পর্তুগালের রাজধানী ছিল রিও ডি জেনিরো। রাজতন্ত্রের সঙ্গে তাদের রাজধানীর স্থানান্তর সম্পর্কযুক্ত।

এছাড়া রাজধানী পরিবর্তনের তালিকায় আছে নেপাল, মিসর, ব্রাজিল, রাশিয়া, তানজানিয়া, আইভরি কোস্ট, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশের নাম।

আরও