সুদানের উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশারে প্রথমবারের মতো সফর করেছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দল। গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরটি দখলে নেয় প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। এরপর থেকে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এখনো যারা শহরে রয়েছেন, তারা খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত। খবর এপি।
দীর্ঘ এক বছরের অবরোধের পর শহরটি দখল করে আরএসএফ। এই সময়ে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যারা পালাতে সক্ষম হয়েছেন, তারা জানিয়েছেন, নিরীহ মানুষদের ঘরে ও রাস্তায় গুলি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, দখলদাররা মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলছে বা দাফন করছে। হামলায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনও অজানা।
জাতিসংঘের সুদান প্রতিনিধি ডেনাইজ ব্রাউন এ সফরকে ‘চরম চাপের মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আরএসএফ বাহিনী সৌদি হাসপাতালের ৪৬০ জন রোগী এবং তাদের পরিচারককে হত্যা করে তাদেরকে মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে।
এখনো শহরে কয়েক শত মানুষ বাস করছেন। তারা পরিত্যক্ত ভবন বা প্লাস্টিকের শিট, কম্বল ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সামগ্রী দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশের কাছে পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত খাদ্য নেই। জাতিসংঘ দল একটি ছোট বাজারও দেখেছে, যেখানে মাত্র কয়েকটি মৌলিক পণ্য যেমন টমেটো ও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। চালের দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১০০ ডলার পৌঁছেছে।
শহরের বাকি মানুষদের জন্য একটি স্কুলে প্রথম চ্যারিটি কিচেন চালু হয়েছে। স্থানীয় মানবিক সংস্থা ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের (ইআরআর) পরিচালনায় এখানে প্রতিদিন খাবার, খাদ্য সামগ্রী এবং আশ্রয় সরবরাহ করা হবে। আরো ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে এই ধরনের কমিউনিটি কিচেন খোলা হবে, যেখানে অন্তত ১০০ জন আশ্রয় নিয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণভাবে অচল’ বলে জানিয়েছেন সুদান ডাক্তার নেটওয়ার্কের মুখপাত্র মোহাম্মদ এলশেখ। হাসপাতালগুলো খুব সীমিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।
ব্রাউন এল-ফাশারের পরিস্থিতিকে দারফুর যুদ্ধের ‘একটি নিদর্শন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, প্যারামিলিটারি বাহিনী ও সেনা উভয়ই যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
জাতিসংঘের সফরের মূল লক্ষ্য ছিল মানবিক কর্মীদের জন্য নিরাপদ রুট খুঁজে বের করা। শহরের আশেপাশের গ্রামগুলো প্রায় পরিত্যক্ত, এবং জানা গেছে কিছু মানুষ আটক রয়েছে, তাদের মধ্যে আহতদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।