যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

হামলার পরিকল্পনায় সম্মতি দিলেও চূড়ান্ত নির্দেশ স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প

ইরানের সুরক্ষিত ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হতে পারে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নেভি ডেস্ট্রয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে এবং দ্বিতীয় ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ আরব সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে (১৭ জুন) তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন। তবে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে কি না, তা দেখার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ আপাতত স্থগিত রেখেছেন। বৈঠকের সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সুরক্ষিত ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হতে পারে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু। পর্বতের নিচে অবস্থিত এই ফোর্দো ফ্যাসিলিটির ক্ষতি সাধন কেবল অতি শক্তিশালী ও বিশেষায়িত বোমা দিয়েই সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি (হামলা) করতে পারি, আবার নাও করতে পারি।‘ একইসঙ্গে তিনি তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। হয়তো এক সপ্তাহও লাগবে না।‘

এর আগে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ঘোষণা দেন, তার দেশ আত্মসমর্পণ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নেভি ডেস্ট্রয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে এবং দ্বিতীয় ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ আরব সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক। তবে এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত করে যে, ট্রাম্প চাইলে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে এটি ইরানকে চাপ প্রয়োগের কৌশলও হতে পারে, যাতে তারা আত্মসমর্পণ বা কিছু ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরানে চালানো পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ২৪ জন।

আরও