যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক স্কট গ্যালোওয়ে সম্প্রতি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে সরকারি চাকরি ও ব্যয় ছাঁটাই কার্যকর করার মাধ্যমে ইলন মাস্ক ব্র্যান্ড ধ্বংসের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জনপ্রিয় পিভট পডকাস্টের এক পর্বে গ্যালোওয়ে বলেন, মাস্ক তার বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান গ্রাহকগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন এবং এমন এক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, যারা ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি তেমন আগ্রহীই নন।
তিনি তুলে ধরেন, ২০২১ সালে সর্বাধিক খ্যাতিমান ব্র্যান্ডের তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা টেসলা এখন নেমে গেছে ৯৫তম স্থানে। তিনি বলেন, ‘মাস্ক আসল মানুষদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। ৭৫ শতাংশ রিপাবলিকান কখনো ইভি কেনার কথাই ভাবেন না। অথচ মাস্ক তাদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন।‘
গ্যালোওয়ে ইউরোপজুড়ে টেসলার বিক্রি হ্রাসের তথ্যও দেন: ফ্রান্সে ৫৯%, সুইডেনে ৮১%, নেদারল্যান্ডসে ৭৪%, ডেনমার্কে ৬৬%, সুইজারল্যান্ডে ৫০% এবং পর্তুগালে ৩৩% বিক্রি কমেছে।
তিনি আরো বলেন, মাস্ক সম্প্রতি ইউরোপের রাজনৈতিক ইস্যুতেও নাক গলিয়েছেন। জার্মানির জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের গ্রুমিং গ্যাং বিতর্ক পর্যন্ত সবকিছুতেই তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সরব থেকেছেন।
এসব রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ইউরোপের ইভি বাজারে মাস্কের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি এপ্রিল মাসে টেসলাকে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় বাজারে ইভি বিক্রিতে ছাড়িয়ে যায় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডি।
‘এটি সম্ভবত আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ব্র্যান্ড ধ্বংসের ঘটনা,’ বলেন গ্যালোওয়ে। ‘টেসলা ছিল একটি দুর্দান্ত ব্র্যান্ড। অথচ মাস্ক এখন তার মূল গ্রাহকগোষ্ঠীকে নিজ হাতেই বিতাড়িত করেছেন।‘
টেসলার এই সংকটের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে মাস্কের ‘ডোজ’ এর নেতৃত্ব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যয় ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান হ্রাসে কাজ করছিল এ বিভাগটি, যার নেতৃত্বে মাস্ক।
এই দায়িত্ব মাস্ক পেয়েছিলেন ট্রাম্পপন্থী সুপার পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটিতে ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার পর। গত নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাস্ক এই পদে নিযুক্ত হন। তবে একাধিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ফেডারেল কর্মীদের ব্যাপক ছাঁটাইসহ ডোজের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনগণের অসন্তোষ রয়েছে।
এপ্রিলের শেষ দিকে টেসলা জানায়, তাদের মুনাফা কমেছে ৭১ শতাংশ। এর পর মাস্ক বিনিয়োগকারীদের জানান, তিনি মে মাস থেকে ধীরে ধীরে ডোজ-এর কাজ থেকে সরে দাঁড়াবেন। মাস্ক বলেন, ‘সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ প্রায় শেষ। এজন্য ডোজে আমার সময় ব্যয় এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।‘
তবে নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিস জানায়, ডোজ ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ছাঁটাইয়ের যে কথা বলছে, সেগুলো বাস্তবে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের লোকসানে পরিণত হতে পারে।
টেসলার ব্র্যান্ড, বাজার ও মুনাফায় এই ক্ষয়ক্ষতির ধারাবাহিকতা মাস্কের রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর মূল্য কতটা চড়া হতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।