রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে রুশ তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরেকটি ট্যাংকার জব্দ করেছে ফ্রান্স। আটলান্টিক মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ‘টাগর’ নামের জাহাজটি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। খবর সিএনএন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় মাখোঁ জানান, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় যুক্তরাজ্যসহ একাধিক অংশীদার দেশের সহায়তায় এবং সমুদ্র আইনের আওতায় জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে।
বার্তায় মাখোঁ লিখেছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া, সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করা কিংবা চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে অর্থায়ন করার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মাদাগাস্কারে নিবন্ধিত ‘টাগর’ নামের অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারটি পাঁচদিন আগে উত্তর আটলান্টিকে অবস্থান করছিল। জাহাজটি রাশিয়ার উম্বা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। টাগরের ওপর এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবে ফ্রান্সের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে মস্কো। জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘অবৈধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার কাছাকাছি’ বলে অভিহিত করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে জানা গেছে, টাগরের অধিনায়ক একজন রুশ নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটির ক্রুদের মধ্যে রুশ নাগরিক রয়েছেন কিনা সে বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে প্যারিসে অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাস। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
রুশ তেলবাহী জাহাজ আটকানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর আরো কঠোর অবস্থান নেয়ার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার ফ্রান্স। চলতি বছরের মার্চে ভূমধ্যসাগরে আরেকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছিল ফরাসি নৌবাহিনী। সে সময় মাখোঁ দাবি করেছিলেন, জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’র অংশ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রফতানি অব্যাহত রাখতে রাশিয়া যে কয়েকশ ট্যাংকারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, সেটিকেই সাধারণত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়।