থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। একটি সংবেদনশীল ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
মঙ্গলবার বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে পেতংতার্নকে সাময়িক বরখাস্তের আবেদন গ্রহণের পক্ষে রায় দেন। এর মাধ্যমে পেতংতার্নের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৭ জন তার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্তের পক্ষে এবং ২ জন বিপক্ষে ভোট দেন। আদালত জানিয়েছেন, নিজের পক্ষে প্রমাণ হাজির করতে পেতংতার্নের ১৫ দিন সময় থাকবে।
৩৬ জন সিনেটরের পক্ষ থেকে করা আবেদনে বলা হয়, পেতংতার্ন অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি ফোনালাপ ফাঁস করেছেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুয়াংরুয়াংকিত অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পর্যটনমন্ত্রী ও পেউ থাই পার্টির মহাসচিব সরাওং থিয়েনথং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সরকারের কাজ বন্ধ হচ্ছে না, কোনো সমস্যা নেই। সুরিয়া অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হবেন।‘
গত ১৫ জুন সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে কম্বোডিয়ার প্রাক্তন নেতা হুন সেনের সঙ্গে এক আলোচনায় পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের একজন সেনা কমান্ডারের সমালোচনা করেছিলেন। সেনাবাহিনীর ক্ষমতাধর ভূমিকার কারণে এ ধরনের মন্তব্যকে থাইল্যান্ডে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই ফোনালাপ ফাঁসের পর দেশে ব্যাপক ক্ষোভ হয়েছে। জোট সরকার এরইমধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। একটি প্রধান দল জোট ত্যাগ করেছে এবং শিগগিরই অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে। বিক্ষোভকারীরাও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।
পেতংতার্ন অবশ্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার মন্তব্য ছিল কূটনৈতিক কৌশল মাত্র।
মাত্র ১০ মাসের শাসনামলেই পেতংতার্নের এই সঙ্কট দেখিয়ে দিচ্ছে, থাই রাজনীতিতে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। এই পরিবার ২০০১ সাল থেকে বারবার নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সেনা অভ্যুত্থান ও আদালতের রায়ে একের পর এক সরকার পতন হয়েছে।