৬০ বছর পর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সিইও পদ ছাড়ছেন ওয়ারেন বাফেট

এই ঘোষণার মাধ্যমে ৬০ বছরের নেতৃত্বের ইতি টানার কথা জানালেন বাফেট। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি বার্কশায়ারকে এক ব্যর্থ টেক্সটাইল কোম্পানি থেকে ১ দশমিক ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল কনগ্লোমারেটে রূপান্তরিত করেছেন।

বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা ওয়ারেন বাফেট অবশেষে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন। ৯৪ বছর বয়সী বাফেট ঘোষণা করেছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন এবং কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেগ অ্যাবেল হাল ধরবেন। খবর রয়টার্স।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ৬০ বছরের নেতৃত্বের ইতি টানার কথা জানালেন বাফেট। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি বার্কশায়ারকে এক ব্যর্থ টেক্সটাইল কোম্পানি থেকে ১ দশমিক ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল কনগ্লোমারেটে রূপান্তরিত করেছেন। আজকের দিনে তিনি শুধু একজন শেয়ার বাজার কিংবদন্তিই নন, বরং আমেরিকায় উদ্যোক্তাদের সফলতার প্রতীক।

অবসর ঘোষণার সময় বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভায় বাফেট বলেন, ‘আমি মনে করি, গ্রেগের এখন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সময় হয়েছে। আমি আশপাশেই থাকব এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে গ্রেগের।‘

জেপি মরগানের সিইও জেমি ডিমন বলেন, ‘ওয়ারেন বাফেট হচ্ছেন আমেরিকান পুঁজিবাদের ও আমেরিকার সব চেয়ে ভালো দিকগুলোর প্রতীক।‘ অ্যাপলের টিম কুক এক্স-এ লিখেছেন, ‘ওয়ারেনের মতো আর কেউ নেই।‘

বাফেট নিশ্চিত করেছেন, তিনি তার বার্কশায়ার শেয়ারের একটিও বিক্রি করবেন না এবং মৃত্যুর পর সেগুলোর প্রায় সবই দান করা হবে। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ১৬৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় পুরোটাই বার্কশায়ারের শেয়ারে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, গ্রেগের নেতৃত্বে বার্কশায়ারের ভবিষ্যৎ আমার সময়ের চেয়েও ভালো হবে।‘

বার্কশায়ারের নতুন সিইও গ্রেগ অ্যাবেল ২০১৮ সাল থেকে কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০২১ সাল থেকে বাফেটের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। তবে বাফেটের মতো গণমাধ্যমের আলোয় তিনি থাকবেন না, বরং তার মূল ভূমিকা হবে কোম্পানির সংস্কৃতি বজায় রাখা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

ওমাহাভিত্তিক বার্কশায়ারের অধীনে বর্তমানে প্রায় ২০০টি ব্যবসা রয়েছে—গেইকো ইন্স্যুরেন্স, বিএনএসএফ রেলরোড, ডেইরি কুইন আইসক্রিম, ফ্রুট অব দ্য লুমসহ বিভিন্ন খাতজুড়ে। শেয়ারবাজারেও প্রতিষ্ঠানটির বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে অ্যাপল, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার মতো কোম্পানিতে।

‘ওমাহার ওরাকল’ খ্যাত বাফেট ছিলেন বিনিয়োগের গুরু বেনজামিন গ্রাহামের শিষ্য, যিনি কোম্পানির মৌলিক শক্তি ও যুক্তিসঙ্গত দামে শেয়ার কেনার ওপর গুরুত্ব দিতেন। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৬৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বার্কশায়ার অর্জন করেছে ৫৫ লাখ শতাংশের বেশি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি।

আরও