বাড়ছে সরকারের পরিধি আজ শপথ নিচ্ছেন আরো চার উপদেষ্টা

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে আজ শপথ নিচ্ছেন আরো চারজন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৭ জন শপথ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সামলাচ্ছেন। সেই সংখ্যা এখন ২১-এ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে আজ শপথ নিচ্ছেন আরো চারজন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৭ জন শপথ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সামলাচ্ছেন। সেই সংখ্যা এখন ২১-এ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠান হবে আজ। নতুন করে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম এবং অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেবেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গভবন প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাদের পাঁচটি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। তবে কয়জন উপদেষ্টা হবেন, সেটা তারা জানেন না। কেননা এ ধরনের ক্ষেত্রে সব সময়ই অতিরিক্ত গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। তাই গাড়ির সংখ্যা দিয়ে উপদেষ্টার সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৬ সালের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, সাসেক্সে আইডিএস, আইএফপিআরআই ও বিশ্বব্যাংকে নানা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দেশে ক্ষুদ্র-অর্থ, জাতীয় আয়, কৃষি সংস্কার, পিআরএসপি এবং এমডিজি পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত অনেক সরকারি কমিটি ও কমিশনেরও অংশ ছিলেন। 

কর্মজীবনে সরকারের আমলা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আলী ইমাম মজুমদার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে ১২ আগস্ট দায়িত্ব পান। এর আগে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের মহাসচিব ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) পরামর্শক। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এ আমলা। 

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাংলাদেশ সামরিক একাডেমির প্রশিক্ষক ছিলেন। বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) মহাপরিচালক, সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর কিউএমজি হিসেবে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তার কয়েক মাস পরই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ২০০৭-০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণের পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে অধ্যাপনা করেন। তিনি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান কিস্টোন কনসাল্টিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও ইউএনডিপির একজন শীর্ষ পরামর্শক তিনি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টাসহ এ সরকারের সদস্য সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৭। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে রাখা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা, সড়ক পরিবহন ও সেতু, খাদ্য, কৃষি, জনপ্রশাসন, বাণিজ্যসহ ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব।

অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে সালেহউদ্দিন আহমেদকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে আইন; আদিলুর রহমান খানকে শিল্প; হাসান আরিফকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; মো. তৌহিদ হোসেনকে পররাষ্ট্র; সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; শারমিন এস মুরশিদকে সমাজকল্যাণ; ফারুক-ই-আজমকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে স্বরাষ্ট্র; সুপ্রদীপ চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক; বিধান রঞ্জন রায়কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; আ ফ ম খালিদ হোসেনকে ধর্ম; ফরিদা আখতারকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; নুরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ; মো. নাহিদ ইসলামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও