শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়েছে প্রশাসন। সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন। এমন পরিস্থিতিতে আজ-কালের মধ্যে দায়িত্ব নিতে পারে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ অবস্থায় পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণে নতুন প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলছেন বড় ব্যবসায়ীরা। নতুন সরকারের কাছে তাদের কয়েকজনের প্রত্যাশা—
যারা গত কয়েক দিনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের কোনোভাবেই ভোলা যাবে না। তাদের প্রত্যেকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার প্রথমেই থাকবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর, দুদক, সর্বোপরি বিচারালয় ও বিচার ব্যবস্থায় সুশাসনের ঘাটতি ১৬ বছর ধরে দেখা গেছে।
এ অবস্থা থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রয়োজনটা জনদাবি আকারে প্রকাশিত হয়েছে, এটাকে পরিণামদর্শিতার সঙ্গে উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সংস্কারটা করলেই অর্থনীতি যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াবে। সংস্কারে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বলতে গেলে বলতে হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একটি আরেকটির পরিপূরক। ফলে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কার করে পরে এনবিআর করা হবে—এমন পরিকল্পনা খুব কার্যকর হবে না। কারণ দুর্নীতি সর্বস্তরে এমন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে এগুলো নিয়ে কথা বলাও অসম্ভব ছিল। সেলফ সেন্সর্ড একটা শাসন ব্যবস্থায় আমরা ছিলাম। তথ্য-উপাত্তের প্রচণ্ড গরমিল তৈরি হয়েছিল। এগুলো ঠিক করে উপস্থাপনটাও এখন বড় কাজ, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমাদের আবার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে এভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক সহায়তায় বিভিন্নভাবে এক ধরনের ইমিউনিটি পেয়ে আসছে, তাতে মারাত্মক একটা অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছিল বাজারে। অনেক অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়েছে। এসব কিছুর ফলে কিছু বৃহৎ প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়েছে, সরকারের আনুকূল্যে অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত হয়েছে। অর্থাৎ ক্রনি ক্যাপিটালিজমের উত্থান আমরা দেখতে পেয়েছি। ব্যাংকের পাশাপাশি শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও আমরা এ পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছি। কিন্তু এগুলো নিয়ে বলার সৌভাগ্যও এতদিন আমাদের ছিল না। এভাবে অর্থনীতিকে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। সার্বিকভাবে সম্পদের প্রচণ্ড অসম বণ্টন দেখা গেছে। এসএমইগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
মূল বিষয় হচ্ছে একটা সমতা ও ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা, যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ভোক্তাও উপযুক্ত মূল্যে পণ্য পাবে। সমতা ও ইনসাফের ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতিও সচল হবে।