সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ছাত্র-জনতার সরকার ছাড়া আমরা কাউকে সমর্থন করব না

যেসব ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেসব ছাত্র-জনতার সরকার ছাড়া অন্য কাউকে জনগণ সরকার হিসেবে মানবে না বলে মনে করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেজন্য অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকসহ সব শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের নাম ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

যেসব ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেসব ছাত্র-জনতার সরকার ছাড়া অন্য কাউকে জনগণ সরকার হিসেবে মানবে না বলে মনে করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেজন্য অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকসহ সব শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের নাম ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। 

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকের সমর্থিত বা প্রস্তাবিত সরকার ছাড়া আর কোনো সরকারকে আমরা সমর্থন করব না। সেটা সেনা সমর্থিত সরকার অথবা জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, যা-ই হোক না কেন, এ ধরনের কোনো সরকারকে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা গ্রহণ করবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই যে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিক, তাদের প্রস্তাবিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেয়া হবে। সে জাতীয় সরকারে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-নাগরিকের অংশগ্রহণ থাকবে। এবং নাগরিক সমাজসহ যেসব নানান পেশাজীবী ও পক্ষ রয়েছে, সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের নাম ও রূপরেখা ঘোষণা করব। আমরা কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ছিলাম। আমরা প্রথমে সব সমন্বয়কসহ নানা পক্ষের সঙ্গে বসে একটি সমন্বিত ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত জাতির সামনে উপস্থাপন করতে চাই।’

তিনি  বলেন, ‘আমরা মনে করি কেবল ব্যক্তিকে সরালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দিয়ে এ ধরনের ফ্যাসিজম তৈরি হয়, সে কাঠামোকে বিলোপ করে একটি নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আমাদের করতে হবে। সে জায়গা থেকে শেখ হাসিনার পতন আমাদের আন্দোলনের প্রথম ধাপ, এটা আমরা অর্জন করেছি। এখন আমাদের দ্বিতীয় ধাপের দিকে যেতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছে, তাদের আমরা জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করছি। এছাড়া যারা এ ফ্যাসিস্ট রেজিমে গত কয়েক বছরে শহীদ হয়েছেন, তাদেরও আমরা এদিনে স্মরণ করছি। আমরা বলেছিলাম, শেখ হাসিনার পদত্যাগই একমাত্র সমাধান নয়। এই যে তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, এর আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, অবশ্যই এসবের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেই হবে না। আমরা তাকে বিচারের আওতায় আনব। যারা ফ্যাসিবাদের সহায়তা করেছে এবং তাদের সমর্থক, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।’

গ্রেফতারকৃতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে এ সমন্বয়ক বলেন, ‘আন্দোলনের শিক্ষার্থী, সমন্বয়ক, ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন ও ইব্রাহিমসহ সারা দেশে বিভিন্ন সমন্বয়ক, আন্দোলনকারী এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে কারাগারে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। এ আন্দোলনের কারাবন্দি এবং এ ফ্যাসিস্ট রেজিমে আটক নিরপরাধ ব্যক্তি এবং রাজবন্দিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করার ঘোষণা করছি। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সঙ্গে রাজপথে দেখতে চাই।’

চূড়ান্ত সরকারের রূপরেখা দেয়ার আগ পর্যন্ত মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে রাজপথে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আন্দোলনের সুযোগে ফ্যাসিবাদের দোষররা নানা ধরনের অঘটন, নাশকতা, সহিংসতা করে এ আন্দোলনের ন্যায্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যেতে পারে। এ দেশ আমাদের। এ সম্পদ ও রাষ্ট্র আমাদের। কেউ যাতে কোনো ধরনের লুটপাট, সাম্প্রদায়িক হামলা ও কোনো ধরনের উসকানিতে কর্ণপাত না করে, সেজন্য মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকেই সতর্ক থাকতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে। আমরা কোনো প্রাণনাশ কিংবা সহিংসতা চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করব। যাদের বিচার করা হবে, একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায়বিচারই আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করব।’

নাহিদ আরো বলেন, ‘আমরা বৈষম্য দূর, সমাজে ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এ আন্দোলন করেছিলাম। এ ঘোষণার প্রতি যেন সবাই শ্রদ্ধাশীল থাকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সবার জীবন ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য মাঠে থাকবে, সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সতকর্তা দিয়েই আমরা রাজপথে থাকব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এ গণ-অভ্যুত্থান করেছি। আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ঐক্যবদ্ধতাকে নষ্ট করার সব পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিতে হবে। হাসিনা রেজিম, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ও খুনি সরকারের বিপরীতে এখানে মুক্তিকামী জনতা, দল, মত, নির্বিশেষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি, নাশকতা বা বিভাজনের চেষ্টা করা হলে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে তা রুখে দিতে হবে।’

বিরোধী দলসহ সব নাগরিককে তাদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘বিপ্লবী ছাত্র-জনতার নেতৃত্বেই এ গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। জনগণ তাদের নেতৃত্বে মাঠে নেমে এসেছিল, তাদের আহ্বানে জীবন দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের ওপর জনগণের শতভাগ আস্থা আছে। এখানে যদি কোনো ধরনের চক্রান্ত অংশ নেয় বা শেখ হাসিনাকে সরিয়ে ফ্যাসিস্ট রেজিমের কোনো বি টিম বসতে চায়, সেখানে যদি কোনো দল বা পক্ষ অংশ নেয়, তাহলে জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না, প্রত্যাখ্যান করবে।’

আরও