বাংলাদেশ ইস্যুতে ব্লিংকেনকে ২২ মার্কিন আইনপ্রণেতার চিঠি

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ আইনপ্রণেতা। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট ও বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা রয়েছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ আইনপ্রণেতা। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট ও বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা রয়েছেন।

শুক্রবার লেখা ওই চিঠিতে তারা বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে বর্তমান সরকারের অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে।’

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘এ উদ্বেগজনক ও চলমান প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করি, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে ভিত্তি রয়েছে, তা সমুন্নত রাখতে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্ব দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যেমন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার। এছাড়া জনগণের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে। উপরন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আরো অবনতি ঠেকাতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, যেন দেশটিতে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় মানুষের অধিকারকে সমর্থন দেয়া যায়, যে সরকার মানবাধিকার সমুন্নত রাখবে এবং নাগরিকদের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে।’

চিঠিতে তারা আরো লিখেছেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খর্ব করে, এমন পদক্ষেপ অব্যাহতভাবে নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে আছে জানুয়ারিতে ভয়াবহ ত্রুটিপূর্ণ এক নির্বাচন। শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতেও ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র বিক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞায় থাকা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে ব্যবহার করেছে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে দাঙ্গা পুলিশ। এছাড়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কঠোর কারফিউ ও দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ দমনের জন্য ইন্টারনেটও বন্ধ করা হয়েছে।’

চিঠিতে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানরা। তারা বলেন, ‘আটককৃতদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্ত হলেও এখনো অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মী ও সরকারের সমালোচকদের অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

চিঠিতে সই করা সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানের তালিকায় আছেন এডওয়ার্ড জে. মার্কি, ক্রিস ভ্যান হোলান, টাম্মি বাল্ডিন, জেফরি এ মার্কলি, ক্রিস্টোফার এস মারফি, টিম কাইন, রিচার্ড জে ডারবিন,

জেমস পি. ম্যাক গভার্ন, উইলিয়াম আর কিয়েটিং, গ্রেস মেঞ্জ, সেথ মল্টান, লরি ট্রাহান, জো উইলসন, জেমস সি. মোলান, ডিনা টিটাস, জিরাল্ড ই কনলি, গাবে আমো, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, ইলহান ওমর, নাইডিয়া ভেলাজকুয়েজ, ডেনিয়েল টি কিলডি ও বারবারা লি।

আরও