১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন পোশাক শ্রমিক ইয়ামিন চৌধুরী (১৮) মারা গেছেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডায় ১৯ জুলাই সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন পোশাক শ্রমিক ইয়ামিন চৌধুরী (১৮) মারা গেছেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডায় ১৯ জুলাই সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতকৃত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০৮-এ। সারা দেশে কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষে মৃত্যুর সরকারি হিসাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যায়নি। এসব মৃত্যুর হিসাব মূলত প্রস্তুত করা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল, পুলিশ, মর্গ ও স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। 

সারা দেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে ১৫ জুলাই। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন দল এবং এর অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলায় আহত হন তিন শতাধিক। পরদিন ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ছয়জনের মৃত্যু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সহিংসতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮-এ। মৃতদের অনেকেরই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। 

ঢাকার বাইরে গত বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বণিক বার্তাকে জানান, ওই রোগীর নাম আব্দুল মজিদ (২০)। তিনি চাঁদপুর থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সহিংসতায় তার শরীরের বেশকিছু অংশ পুড়ে যায়। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ জুলাই কারফিউ জারি করা হয়। সারা দেশে মোতায়েন করা হয় ২৭ হাজার সেনা। প্রথম দুদিন বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা করে কারফিউ শিথিল থাকে। এরপর শিথিলের সময়সীমা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়। ২২ জুলাই কারফিউ শিথিল থাকে ৩ ঘণ্টা। ৪ ঘণ্টা শিথিল থাকে ২৩ জুলাই। ২৪ ও ২৫ জুলাই শিথিলের সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয় ৭ ঘণ্টা। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি সরকারের নির্বাহী আদেশে সারা দেশে ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আরও