সামিটের এলএনজি টার্মিনাল

সংস্কার শেষে দেশে ফিরেই ফের ক্ষতিগ্রস্ত মেসেঞ্জার লাইন

বিদেশে মেরামত শেষে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) দেশে আনার পর আবারো কারিগরি ত্রুটিতে পড়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে টার্মিনালটি নোঙর করার সময় মেসেঞ্জার লাইনে (বিশেষ এক ধরনের দড়ি) দুর্ঘটনা ঘটে। এতে লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারিগরি ত্রুটি সারাতে তাৎক্ষণিকভাবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সামিট।

বিদেশে মেরামত শেষে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) দেশে আনার পর আবারো কারিগরি ত্রুটিতে পড়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে টার্মিনালটি নোঙর করার সময় মেসেঞ্জার লাইনে (বিশেষ এক ধরনের দড়ি) দুর্ঘটনা ঘটে। এতে লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারিগরি ত্রুটি সারাতে তাৎক্ষণিকভাবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সামিট। 

টার্মিনালটি দিয়ে ১৮ জুলাই থেকে পুনরায় এলএনজি সরবরাহের কথা ছিল বলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটনায় সরবরাহ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

এদিকে লিখিত এক বক্তব্যে সামিট থেকে বণিক বার্তাকে জানানো হয়, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এফএসআরইউর ব্যালাস্ট ওয়াটার ট্যাংকের মেরামত শেষে ১০ জুলাই টার্মিনালটি মহেশখালীতে আনা হয়। ১১ জুলাই সমুদ্রের তলদেশে ডিসকানেক্টেবল টারেট মুরিং (ডিটিএম) প্লাগ ও ল্যান্ডিং প্যাডের সঙ্গে এফএসআরইউর নোঙরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় আকস্মিকভাবে ডিটিএম বয়া মেসেঞ্জার লাইনে জটলা বেঁধে লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

সামিট জানায়, বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য স্থানীয় ডুবুরিদের নিযুক্ত করা হয়। ডুবুরিরা মেসেঞ্জার লাইনে ত্রুটি খুঁজে পান। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মেসেঞ্জার লাইনটি সমুদ্রের তলদেশ থেকে উদ্ধারের জন্য বিশ্বমানের ডুবুরি ও ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (ডিএসভি) প্রয়োজন বলে সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণের জন্য সামিট সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বর্তমানে ডুবুরি দলের অপেক্ষায় রয়েছে এফএসআরইউ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি অনুসন্ধান করে ডুবুরি দল আগামী সপ্তাহের মধ্যে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছে সামিট। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত লাইনটি পুনঃসঞ্চালনের সম্ভাব্য তারিখ সব অংশীদারকে অবহিত করবে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আকস্মিক এ দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও নিরাপদভাবে এলএনজি শিপ টু শিপ (এসটিএস) ট্রান্সফার ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সামিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরপিজিসিএলের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এফএসআরইউ পুনঃস্থাপনের সময় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। ওখানে একটা দড়ি ছিঁড়ে গেছে। এটি ঠিক করার জন্য আমাদের বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডুবুরি এবং জাহাজ দরকার, যা সময় লাগবে। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা টার্মিনালটি পুনঃস্থাপনের প্রত্যাশা করেছিলাম। এখন আরো সাত-আটদিন সময় লেগে যাবে।’

দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি সামিট গ্রুপের। গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার পর পেট্রোবাংলা প্রত্যাশা করেছিল আগামী সপ্তাহে টার্মিনালটি চালু হবে। এতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা হলেও বাড়বে।

আরও