সিপিডির আলোচনা

২০৩০ সালে উৎপাদন সক্ষমতা উদ্বৃত্ত থাকবে ১৭ হাজার মেগাওয়াট

বিদ্যুতে উৎপাদন সক্ষমতা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদার হিসাব বিবেচনায় নিলে সংশ্লিষ্ট সময়ে চাহিদা তৈরি হবে ১৯ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট। আর ২৫ শতাংশ রিজার্ভ মার্জিন ধরলে বিদ্যুতের এ চাহিদা সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ২৫২ মেগাওয়াট হতে পারে। এ হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ উৎপাদন সক্ষমতা উদ্বৃত্ত থাকবে

বিদ্যুতে উৎপাদন সক্ষমতা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদার হিসাব বিবেচনায় নিলে সংশ্লিষ্ট সময়ে চাহিদা তৈরি হবে ১৯ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট। আর ২৫ শতাংশ রিজার্ভ মার্জিন ধরলে বিদ্যুতের এ চাহিদা সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ২৫২ মেগাওয়াট হতে পারে। এ হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ উৎপাদন সক্ষমতা উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট বলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি সেক্টর ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট ফাইন্যান্সিয়াল ইয়ার ২০২৫: ক্যান দ্য প্রপোজড মেজারস অ্যাড্রেস দ্য চ্যালেঞ্জেস?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপিত হয়। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডি উপস্থাপিত এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে বিদ্যুতের পিক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। সেই হিসাব ধরলে উদ্বৃত্ত সক্ষমতা থাকছে ১৪ হাজার ২৬১ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

বর্ধিত এই বিদ্যুৎ সক্ষমতার জন্য সরকারের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দিতে হচ্ছে। কেন্দ্র বসিয়ে রেখে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের ভর্তুকি বছরের পর বছর বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) লোকসানের পরিমাণ আরো বড় হচ্ছে।

সেমিনারে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘‌সরকার দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় এনেছে। এখন আমাদের ফোকাস মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা। বিদ্যুতের উৎপাদন পর্যায়ক্রমে ‍বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছর সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তখন লোডশেডিং ৫০০ মেগাওয়াটও ছিল না। এ বছরই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে উঠবে। বাড়তি চাহিদার বিপরীতে বাড়তি সক্ষমতার প্রয়োজন আছে। তবে ৩০ হাজার মেগাওয়াট যে সক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত আমাদের ইনস্টল ক্যাপাসিটি। গ্রিড ক্যাপাসিটি ২৭ হাজার মেগাওয়াট।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘গত দুই-তিন বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যত প্রকল্প দেয়া হয়েছে, সবই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। জামালপুরে ২০ হাজার একর জায়গাজুড়ে বিশাল সোলার প্রকল্প করার বিষয়ে একটি স্টাডি করা হচ্ছে। এছাড়া সোলার ও বায়ু বিদ্যুৎসহ নেট মিটারিং নিয়েও আমরা নানাভাবে কাজ করছি।’ এ সময় তিনি সেমিনারের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সেমিনারে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘‌বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৯৯৬ সালের পর আর কোনো পলিসি হয়নি। বলতে গেলে এ খাতের কোনো পলিসি নেই। আমরা পরিকল্পনা করছি, অথচ কোনো পলিসি করছি না। যে কারণে ব্যর্থ হচ্ছি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনার মাধ্যমে পলিসি করছি, অথচ এটার উল্টোটা হওয়ার কথা ছিল। পলিসির মাধ্যমে পরিকল্পনা করার কথা ছিল। এ খাতের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই, যা রয়েছে তা অ্যাডহক পদ্ধতি। এখন এ খাতে পলিসি দরকার। এজন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নামে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি সমন্বয় করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌বিপিসির দুর্নীতি প্রমাণ হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিদ্যুৎ কিনছে; আবার কমিশনকে পাশ কাটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করছে।’

সিপিডির সেমিনারে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের রেক্টর মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, সাংবাদিক ও গবেষক মতামত দেন।

আরও